আন্টার্কটিকায় গোলাপি পাথরে রহস্য কী? খুঁজে বের করলেন বিজ্ঞানীরা

0
35

ওয়েব ডেস্ক : পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল মহাদেশ আন্টার্কটিকা (Antarctica)। চারদিকে বরফে ঢাকা এই অঞ্চলকে আমরা সাধারণত নির্জন ও প্রাণহীন বলেই ভাবি। কিন্তু সেই বরফের চাদরের নীচেই লুকিয়ে রয়েছে এক বিস্ময়কর অজানা জগৎ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সেই অজানারই এক চমকপ্রদ সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

আন্টার্কটিকার পশ্চিমাংশের হাডসন পর্বতমালা (Hudson Mountains) অঞ্চলের পাইন আইল্যান্ড হিমবাহ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের নজরে আসছিল অদ্ভুত কিছু গোলাপি রঙের গ্রানাইট পাথর (Granite stones)। আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে যার কোনও মিল নেই। আগ্নেয়গিরির চূড়ায় এই বেমানান পাথরের উপস্থিতি বহুদিন ধরেই ধাঁধায় ফেলেছিল গবেষকদের। অবশেষে সেই রহস্যের সমাধান করেন ব্রিটিশ আন্টার্কটিক সার্ভের গবেষকরা। তাঁদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এই পাথরগুলির উৎস আসলে হিমবাহের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এক বিশাল গ্রানাইট স্তূপ। যার বিস্তার প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং প্রায় সাত কিলোমিটার পুরু।

আরও খবর : হোয়াটসঅ্যাপ দুনিয়ায় বিপ্লব! আসছে দারুণ ফিচার

গবেষণায় জানা গিয়েছে, এই গ্রানাইটের (Granite stones) বয়স প্রায় ১৭.৫ কোটি বছর। অর্থাৎ জুরাসিক যুগের সময়কার। সেই সময়ে আন্টার্কটিকা আজকের মতো বরফে ঢাকা ছিল না। বরং ছিল তুলনামূলক উষ্ণ, সবুজে ঘেরা এক অঞ্চল। কনিফার ও ফার্ন গাছে ভরা অরণ্যে ঘুরে বেড়াত বিভিন্ন প্রজাতির ডাইনোসর। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল প্রায় সাত মিটার লম্বা মাংসাশী ক্রায়োলোফোসরস।

বিজ্ঞানীরা আকাশপথে বিশেষ পদ্ধতিতে মাধ্যাকর্ষণ বিশ্লেষণ করে এই লুকিয়ে থাকা গ্রানাইট স্তূপের অস্তিত্বের খোঁজ পান। এই গবেষণা সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বরফের নীচে থাকা এই বিশাল শিলাস্তূপ পৃথিবীর ভূ-গঠনের পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার আবারও প্রমাণ করে যে বর্তমানের বরফে ঢাকা আন্টার্কটিকা (Antarctica) একসময় সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে ছিল। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক আরও গবেষণায় জানা গিয়েছে, একসময় এই মহাদেশে ঘন বনভূমি ছিল। পাশাপাশি বরফের নীচে লুকিয়ে রয়েছে বহু অজানা হিমবাহ ও প্রাকৃতিক গঠন। সব মিলিয়ে, বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পৃথিবীর এই প্রান্ত এখনও রহস্যে ঘেরা, আর সেই রহস্য উন্মোচনের কাজ এখনও অব্যাহত।

দেখুন অন্য খবর :

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here