কলকাতা: ‘বসন্ত এসে গেছে’। নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগছে। ফুটছে শিমুল, পলাশ। কিন্তু এখন বসন্ত কোথায়। শীতের পরে যেনও একেবারে চলে এসেছে গ্রীষ্মকাল। ছটা ঋতুর কথা। কিন্তু এখন নস্ট্যালজিয়ার বসন্ত লুপ্তপ্রায় হয়ে গিয়েছে। বিশেষত পশ্চিম ও উত্তর ভারতে। কোথাও কোথাও প্রায় কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই হানা দিয়েছে তাপপ্রবাহ। মার্চের ১০ তারিখ মুম্বইয়ে তাপমাত্রা উঠে গিয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭.৬ ডিগ্রি বেশি। মার্চের প্রথম দু’সপ্তাহে হিমাচল প্রদেশেরও কিছু এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি। দিল্লিও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।
শীত মিটতে না মিটতেই তাপপ্রবাহের এই ঘটনা আগামী কয়েক মাসের জন্য তো বটেই, আসলে দীর্ঘমেয়াদী অশনি সঙ্কেতও দিচ্ছে, বলছেন আবহাওয়াবিদেরা। শীতের শেষে এখন আর বসন্তের দেখা মেলে না, শুরু হয়ে যায় তীব্র দাবদাহের কাল। এক সময় বসন্ত যে রয়েছে শীত ও গ্রীষ্মের মধ্যে, সেটা দিব্যি অনুভব করতে পারতেন মানুষজন। বসন্ত নিয়ে রোম্যান্টিকতারও শেষ নেই। কিন্তু এখন কি বসন্তকাল তার অতীত গৌরব সত্যিই হারিয়েছে? জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলসম্পদ এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা—সব কিছুর ওপরই বিরূপ প্রভাব ফেলবে এই পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: বাংলা শিখতে হবে! কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পরামর্শ
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দিন তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি থাকবে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে বসন্ত একেবারে উধাও হয়ে গেলেও পুর্বাঞ্চলে এ বছর বসন্তের হালকা প্রভাব ছিল।
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, গত বছর পশ্চিমবাংলায় বসন্ত আসেনি। শীত থেকে সরাসরি গ্রীষ্ম। এ বার বসন্তের খানিকটা প্রভাব ছিল।” তবে তাঁর মতে, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা ও চরম ভাব, দুই’ই যে ভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী বছরেও বসন্ত বাতাসের ছোঁয়া পাওয়া যাবে, এমনটা নিশ্চিত বলা যায় না। বসন্ত একেবারেই ছোট হয়ে যাওয়ায় সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মার্চ-এপ্রিল মাসেই তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। জলবায়ুর উষ্ণায়ন ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার দ্রুত বৃদ্ধি। ভারতের ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লা নিনার প্রভাবকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বাংলার ক্ষেত্রে বিপদ।
বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলি, পশ্চিমে সিন্ধু বা পূর্বে গাঙ্গেয় সমভূমি, সর্বত্রই শীতকালীন বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের পরিমাণ অনেকটা কমে গিয়েছে। জানুয়ারির শেষে এসে বেশ কিছুটা বৃষ্টিপাত হয় একদফায়। ফেব্রুয়ারিতে আবার প্রায় বৃষ্টিই হয়নি। আবার মার্চের শেষ লগ্নে দার্জিলিঙে দেখা যাচ্ছে অকাল তুষারপাত। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, নিম্নচাপ কাটলেই রাজ্য জুড়ে প্রবল গরমের আশঙ্কা থাকছে।

