পশ্চিম মেদিনীপুর: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে সরগরম পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) খড়্গপুর বিধানসভা কেন্দ্র (Kharagpur Assembly)। কারণ এই কেন্দ্রে প্রার্থী করে নিজের এলাকায় দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) ফিরিয়েছে পদ্ম শিবির (BJP)। অন্যদিকে এই আসনে তাঁর বিপক্ষে রয়েছে প্রদীপ সরকারের (Pradip Sarkar) নাম, যিনি এবার লড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) টিকিটে। দু’জনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ময়দান তাঁদের দুই বিরোধী শিবিরের মুখ করেছে। কাজেই দুই বন্ধুর মধ্যে এখন খড়্গপুরে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যত জমে উঠেছে।
শুক্রবার সকালে নিজের পরিচিত ‘চা চক্র’-এর মাধ্যমে প্রচার (Campaign) শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, এটি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল ছাড়া কিছুই নয়। তাঁর অভিযোগ, গত নির্বাচনে তৃণমূল যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর কথায়, কাগজে-কলমে বড় বড় ঘোষণা থাকলেও সাধারণ মানুষ তার কোনও বাস্তব সুফল পাচ্ছেন না। পাশাপাশি রাজ্যের বকেয়া ডিএ ইস্যুতেও সরব হন তিনি।
আরও পড়ুন: কালীর পুজো দিয়ে প্রচার শুরু জাহাঙ্গীরের! ভোটের আগে সম্প্রীতির ছবি ফলতায়
ক্ষমতায় এলে বিজেপির পরিকল্পনা কী—সেই প্রসঙ্গেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমা পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে ডিএ সমস্যার সমাধান এবং ১০০ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত শূন্যপদ পূরণের আশ্বাস দেন তিনি। ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার যুবকদের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও তুলে ধরেন বিজেপি প্রার্থী।
পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর দুরবস্থা, ওষুধের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
দেখুন আরও খবর:

