ওয়েব ডেস্ক : রাশিয়ার (Russia) কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারত (India) ও চিনের (China) উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুক্রবার রাতে জারি করা এক নির্দেশে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার ‘জাতীয় স্বার্থের’ কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৮ অক্টোবর থেকে ওই নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ফলে আপাতত বড়সড় বাণিজ্যিক চাপ থেকে স্বস্তি পেল ভারত ও চীন।
ট্রাম্পের নির্দেশে বলা হয়েছে, রাশিয়া সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্ক প্রয়োগ আপাতত মুলতুবি রাখা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী প্রত্যাহার হিসেবে দেখা হচ্ছে না। নির্দেশ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই শুল্ক কার্যকর করার সুযোগ মার্কিন প্রশাসনের হাতে থাকছে।
গত মাসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি আইনে সই করেছিলেন ট্রাম্প (Donald Trump)। সেই আইনে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। চীন ও ভারত ছাড়াও স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের মতো দেশ এই পদক্ষেপের আওতায় পড়তে পারত। পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থা এবং জ্বালানি বাণিজ্যের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সংস্থান ছিল ওই আইনে।
আরও খবর : সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের জেরে মৃত্যুদণ্ড ২৩ বছরের ছাত্রীর!
রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে আগেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত বছর রুশ তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা আরও ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক যুক্ত হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়া হয় এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্য কাঠামোর অংশ হিসেবে পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের বক্তব্য, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছিল বিদেশ মন্ত্রক। ভারতের বক্তব্য ছিল, বাজারের পরিস্থিতি এবং জ্বালানির চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখা হবে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা ঘিরেও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে আমেরিকায় ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই চুক্তির সমালোচনা করে জেলেনস্কি অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে এই সমঝোতা ইউক্রেনের স্বার্থের পরিপন্থী।
সব মিলিয়ে রাশিয়ার তেল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর যে নতুন শুল্কের চাপ তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা স্থগিত থাকছে।
