ওয়েব ডেস্ক : বরফযুগের সেই বিশাল ম্যামথ ( Mammoth) কি আবার পৃথিবীতে দেখা যেতে পারে? বিলুপ্ত এই প্রাণীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মার্কিন জৈবপ্রযুক্তি সংস্থা কলসাল বায়োসায়েন্সেস এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন এনে ম্যামথের কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার প্রকল্পে কাজ করছে। তবে এটি হুবহু আসল ম্যামথ তৈরির প্রকল্প নয়। বরং লক্ষ্য হল ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি জিনগত ভাবে পরিবর্তিত হাতি তৈরি করা।
প্রথম দিকে সংস্থাটির লক্ষ্য ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে ম্যামথের ( Mammoth) মতো একটি বাছুর তৈরি করা। কিন্তু গবেষণার জটিলতা বাড়ায় সেই সময়সীমা পিছিয়ে গিয়েছে। এখন ২০৩০-এর দশকের গোড়ার দিকে এমন প্রাণী তৈরির সম্ভাব্য সময় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রাচীন ম্যামথের ( Mammoth) ডিএনএ। বরফে সংরক্ষিত দেহাবশেষ থেকে পাওয়া জিনগত উপাদান সম্পূর্ণ ও অক্ষত থাকে না। তাই শুধু পুরনো ডিএনএ ব্যবহার করে সরাসরি ম্যামথ ক্লোন করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা ম্যামথের জিনোমের সঙ্গে এশীয় হাতির জিনোমের তুলনা করে ঠান্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত জিন খুঁজছেন।
আরও খবর : মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাই বিমানে কী ঘটেছিল? তদন্তের আওতায় পাইলট
মোটা লোম, ছোট কান, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি সঞ্চয়ের ক্ষমতা এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা সহ্য করার মতো বৈশিষ্ট্যগুলির পিছনে থাকা জিনগত পরিবর্তন চিহ্নিত করাই এই গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। শুরুতে প্রায় ৬০টি জিনে পরিবর্তন করলেই কাজটি সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে গবেষণার অগ্রগতিতে সেই সংখ্যা ১৫০-রও বেশি হতে পারে বলে জানা যায়।
এই বিশাল জিনগত তথ্য বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এআই-এর মাধ্যমে ম্যামথ ও আধুনিক হাতির জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন পরিবর্তনগুলি প্রাণীটির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। জিন সম্পাদনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিও। গবেষণার একটি পরীক্ষামূলক ধাপে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত ‘উলি মাউস’ও তৈরি করা হয়েছে। ইঁদুরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘন লোম ও চর্বি সঞ্চয়ের মতো বৈশিষ্ট্য তৈরির পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তবে ইঁদুরের পরীক্ষার ফল সরাসরি হাতির ক্ষেত্রে একই ভাবে কার্যকর হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রকল্পটি সফল হলেও তৈরি হওয়া প্রাণীকে বৈজ্ঞানিক অর্থে আসল উলি ম্যামথ বলা যাবে না। কারণ সেটি হবে আধুনিক এশীয় হাতির জিনগত ভিত্তির উপর তৈরি একটি প্রাণী, যার মধ্যে ম্যামথের নির্বাচিত কিছু বৈশিষ্ট্য থাকবে। বিলুপ্ত প্রজাতিকে হুবহু ফিরিয়ে আনার দাবি তাই বৈজ্ঞানিক ভাবে আরও জটিল।
কলসাল বায়োসায়েন্সেসের মতে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী ফিরিয়ে আনা নয়। ম্যামথকে একসময় উত্তরাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রাণী হিসেবে দেখা হয়। তবে আধুনিক পরিবেশে ম্যামথের মতো প্রাণী সেই একই ভূমিকা পালন করতে পারবে কিনা, তা এখনও গবেষণার বিষয়।
