কলকাতা: সেপ্টেম্বরশেষ হওয়ার আগেই দেশের একাধিক জায়গায় তাপমাত্রার পারদ নামতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দিল্লিতে সাম্প্রতিক তাপমাত্রা পতন নজর কেড়েছে। টানা বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং ঠান্ডা হাওয়ার জেরে রাজধানীতে রাতের দিকে শীতের আমেজও অনুভূত হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ বার কি স্বাভাবিকের তুলনায় আগেই শীতের আগমন ঘটতে চলেছে? এর পিছনে কি এল নিনোর কোনও প্রভাব রয়েছে?
আবহাওয়া দফতর অবশ্য এখনই এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছচ্ছে না। আইএমডির মতে, দিল্লির সাম্প্রতিক পারদ পতনের সঙ্গে সরাসরি এল নিনোর যোগ থাকার প্রমাণ নেই। বরং সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থা, বৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় আকাশ মেঘলা থাকার কারণেই তাপমাত্রা কমেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গনা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির প্রভাব দেখা গিয়েছে। উত্তর ভারতের দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ডেও বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।
মেঘের কারণে দিনের বেলায় সূর্যের তাপ কমেছে। পাশাপাশি বৃষ্টি ও বাতাসে আর্দ্রতার প্রভাবে রাতের তাপমাত্রাও নেমেছে। দিল্লির সফদরজং আবহাওয়া কেন্দ্রে ২৭ সেপ্টেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। গত ২৫ বছরের হিসাবে সেপ্টেম্বরের এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিম্ন তাপমাত্রা।
এল নিনোর প্রভাব কতটা?
এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৃহৎ জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় পড়তে পারে। তবে দিল্লিতে সেপ্টেম্বরের সাম্প্রতিক ঠান্ডার সরাসরি কারণ হিসেবে এল নিনোকে চিহ্নিত করছে না আইএমডি।
তবে কি শীত আগেই আসছে?
এই মুহূর্তে আগাম শীতের কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। বর্তমান আবহাওয়া ব্যবস্থা দুর্বল হলে উত্তর ভারতে ফের শুষ্ক পশ্চিমা হাওয়া সক্রিয় হতে পারে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দিনের তাপমাত্রা ফের কিছুটা বাড়তে পারে।
তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পুরোপুরি শুকনো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও এখনই নেই। মায়ানমারের কাছে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোতে পারে। সেটি শক্তিশালী হলে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ফের বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের শেষের এই পারদ পতনকে আপাতত আগাম শীতের নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখছেন না আবহবিদরা। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থার কারণেই এই সাময়িক ঠান্ডা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
