ওয়েব ডেস্ক :‘বাঙালি থাকে দুধেভাতে’—এই প্রচলিত কথার সম্পূর্ণ বিপরীত এক জীবনযাপনের ছবি উঠে এসেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট (Balurghat) ব্লকের মালঞ্চ এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা নন্দ রানী মহন্ত প্রায় ৩৫ বছর ধরে ভাত খান না। তাঁর খাদ্যাভ্যাস এখন মূলত চা ও পান নির্ভর।
জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫ বছর আগে নন্দ রানী মহন্তের ছেলে তাঁকে ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যান। ছেলের বিরহ ও অভিমানে সেই সময় থেকেই ভাত খাওয়া ছেড়ে দেন তিনি। প্রথম দিকে অল্পস্বল্প তরকারি, বেগুন ভাজা-সহ অন্যান্য খাবার খেলেও ধীরে ধীরে সেসবও বন্ধ করে দেন।
আরও খবর : গভীর রাতে গ্রেফতার দুই তৃণমূল নেতা, বাদুড়িয়ায় চাঞ্চল্য
পরবর্তীকালে তাঁর ছেলে ভারতে ফিরে আসেন। বিয়ে করে আলাদা সংসারও গড়েছেন তিনি। কিন্তু এত বছর ধরে তৈরি হয়ে যাওয়া অভ্যাস আর বদলাননি নন্দ রানী। এখনও ভাত খান না তিনি। বর্তমানে তাঁর ছেলে আলাদা সংসার করেন। মেয়ে ও জামাইকে নিয়েই নিজের বাড়িতে থাকেন নন্দ রানী। নন্দ রানী মহন্ত জানিয়েছেন, ছেলে যখন বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তখনই তিনি ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে অল্পস্বল্প অন্য খাবার খেলেও কয়েক বছর ধরে সেসবও ছেড়ে দিয়েছেন। এখন চা ও পানই তাঁর খাদ্যাভ্যাসের প্রধান অংশ। প্রায় চার বছর আগে তাঁর স্বামীও মারা গিয়েছেন।
নন্দ রানীর এমন জীবনযাপন নিয়ে বিস্মিত প্রতিবেশীরাও। তাঁদের দাবি, এত অল্প খাবারের উপর নির্ভর করে কীভাবে তিনি এত বছর ধরে সুস্থ রয়েছেন, সেটাই তাঁদের কাছে আশ্চর্যের বিষয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জীবন কাটিয়ে চলেছেন নন্দ রানী।
