ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ‘বনতারা’র বড় অংশীদারিত্ব, বন্যপ্রাণ স্বাস্থ্য ও সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ

Must Read

ওয়েব ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে বড় উদ্যোগ নিল সে দেশের সরকার। সোমবার জাকার্তায় (Jakarta) সাংবাদিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রী রাজা জুলি আন্তোনি জানান, অনন্ত আম্বানির (Anant Ambani) প্রতিষ্ঠিত ‘বনতারা’ (Vantara) এবং ইন্দোনেশিয়ার বন্যপ্রাণ সংস্থা ‘পিটি ফনা ল্যান্ড গ্রুপ’-এর (PT Fauna Land Group) সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক সংরক্ষণমূলক কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে।

এই সহযোগিতার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) বিভিন্ন প্রান্তে বন্যপ্রাণীদের চিকিৎসার জন্য ১০টি ‘হাসপাতাল অন হুইলস’ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ওয়ে কাম্বাস এলিফ্যান্ট হাসপাতালকে অত্যাধুনিক ‘এলিফ্যান্ট ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড কেয়ার সেন্টার’-এ উন্নীত করা হবে। উন্নত পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির সাহায্যে এই কেন্দ্র মানব পরিচর্যায় থাকা ৬২টি সুমাত্রান হাতি এবং আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা প্রায় ১০০টি বন্য সুমাত্রান হাতির চিকিৎসা ও পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

আরও খবর : বাংলাদেশে বন্ধ ঘর থেকে হিন্দু পরিবারের ৪ জনের দেহ উদ্ধার! ছাদে বাবা, সিঁড়িতে মা-মেয়ে, খাটের নীচে ১২ বছরের ছেলে

শুধু চিকিৎসা পরিকাঠামো নয়, হাতির (Elephant) পরিচর্যাকারী, পশুচিকিৎসক এবং বন্যপ্রাণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। বন্যপ্রাণের চিকিৎসা, পশুচিকিৎসা, প্রাণী পরিচর্যা এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে ‘বনতারা’। একইসঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রী রাজা জুলি আন্তোনি (Raja Juli Antoni) বলেন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের দায়িত্ব মূলত সরকারেরই। এই সহযোগিতার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার বন্যপ্রাণ স্বাস্থ্য ও সংরক্ষণ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় তৈরি সমস্ত পরিকাঠামো ও প্রকল্পের মালিকানা এবং পরিচালনার দায়িত্ব ইন্দোনেশিয়া সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে।

ইন্দোনেশিয়া সরকার ও ‘বনতারা’র (Vantara) মধ্যে আগে থেকেই স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই উদ্যোগগুলি নেওয়া হচ্ছে। বন্যপ্রাণ স্বাস্থ্য, পশুচিকিৎসা, প্রাণী কল্যাণ, সংরক্ষণমূলক প্রজনন, পুনর্বাসন, পুনরায় বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ, একাধিক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও বাড়বে। ‘বনতারা’র জামনগর কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকেও এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগে কাজে লাগানো হবে।

ইন্দোনেশিয়ার বন্যপ্রাণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ও বনতারার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সে দেশের বন্যপ্রাণ সংস্থা ফনা ল্যান্ড। সংস্থার সিইও ড্যানি গুনালেন জানান, দেশের সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণ ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা সকলের যৌথ দায়িত্ব।

ড্যানি গুনালেন বলেন, ইন্দোনেশিয়া অসাধারণ বন্যপ্রাণ ও জীববৈচিত্র্যের অধিকারী। এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং বনতারার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তাঁরা খুশি। দুই পক্ষের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বন্যপ্রাণ স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। ফনা ল্যান্ডের আশা, এই সহযোগিতা শুধু পরিকাঠামো বা চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইন্দোনেশিয়ার বন্যপ্রাণ এবং তাদের সুরক্ষায় নিয়োজিত মানুষদের জন্য এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

উল্লেখ্য, ‘বনতারা’র (Vantara) পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক স্তরে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে সংস্থাটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে। জামনগর কেন্দ্রে গড়ে ওঠা অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং পরিকাঠামোগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণ স্বাস্থ্য, প্রাণী পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থলে সংরক্ষণমূলক উদ্যোগে সহায়তা করবে ‘বনতারা’। ‘বনতারা’র এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হল বন্যপ্রাণীদের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে সংরক্ষণ বা ইন-সিটু কনজারভেশনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সহযোগিতা করা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে কাজ করে বন্যপ্রাণ রক্ষা এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই উদ্যোগ বনতারার সাম্প্রতিক স্বেচ্ছাপ্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারতের CITES ম্যানেজমেন্ট অথরিটির কাছে বনতারা প্রাকৃতিক আবাসস্থলে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে নিজেদের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে নতুন সহযোগিতাকেও সেই বৃহত্তর সংরক্ষণ ভাবনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Latest News

ইঞ্জিনে গোলমাল, মাঝআকাশে বিপদ! ১৮৬ যাত্রী নিয়ে চেন্নাইয়ে জরুরি অবতরণ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের

ওয়েব ডেস্ক : মাঝআকাশে ইঞ্জিনে সমস্যা। ১৮৬ জন যাত্রীকে নিয়ে জরুরি অবতরণ করতে হল মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের (Malaysia Airlines) একটি...

More Articles Like This