বীরভূম: বীরভূমের (Birbhum) তারাপীঠ মন্দিরের (Tarapith Mandir) সামনে একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সোমবার ভোররাতে আচমকাই আগুন লাগে হোটেলটিতে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ঘরে। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। মৃতেরা সকলেই দর্শনার্থী বলে খবর। আগুনে ঝলসে বেশ কয়েক জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাপীঠ থানার কাছে ওই বেসরকারি হোটেলে ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ আগুন লাগে। ঘুমন্ত অবস্থাতেই হোটেলের অতিথিরা বিপদের মধ্যে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা দ্রুত বাড়তে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
আরও খবর : রাজ্যে ফের কোভিডে মৃত্যু! প্রাণ গেল দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারের
হোটেল থেকে মৃতদের দেহ উদ্ধার করে রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তারাপীঠ এবং রামপুরহাট থানার পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটি ঘিরে শুরু হয়েছে তদন্ত। কী ভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
তারাপীঠ বীরভূমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। মন্দিরকে কেন্দ্র করে এলাকায় রয়েছে বহু হোটেল, লজ ও অতিথিশালা। প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী সেখানে যান। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ভিড় বেশি। এমন সময়ে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অতিথিদের দ্রুত বের করে আনার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
