ওয়েব ডেস্ক: ভারত-সহ ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের উপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করল আমেরিক (US Tariff on India)। হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক কার্যকর হবে। জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
প্রথম খসড়ায় ভারতের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবুও এই সিদ্ধান্তে ভারতের একাধিক রপ্তানিনির্ভর শিল্পে চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: ‘শর্টকাট নয়, মেধা আর সততারই জয় হওয়া উচিত’, নিট-বিক্ষোভে মুখ খুললেন শচীন
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বস্ত্র ও পোশাক, রত্ন ও গয়না, চামড়াজাত পণ্য, জুতো এবং আসবাবপত্র শিল্পে। অতিরিক্ত শুল্কের ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য হচ্ছে না। তেল, গ্যাস, কয়েকটি খাদ্যপণ্য এবং কিছু কৌশলগত আমদানি এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ভারতের সব রপ্তানি খাত সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই আবহে নতুন শুল্ক আরোপ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রম রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ করলে এই শুল্ক পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের মোট রপ্তানির একটি বড় অংশ আমেরিকামুখী হওয়ায় আগামী কয়েক মাসে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পগুলির উৎপাদন ব্যয়, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এর প্রভাবের দিকে নজর থাকবে।
