ওয়েব ডেস্ক : বাল্যবিবাহ (Child Marriage) রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। শুধু বিয়ে দেওয়া পরিবারই নয়, বাল্যবিবাহে যুক্ত পুরোহিত ও কাজিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এমনকী বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্তদের সরকারি সুবিধা বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
এদিন বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায় , ইতিমধ্যে বাল্যবিবাহের (Child Marriage) ঘটনায় যুক্ত স্বামীদের শোকজ নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্ত্রী প্রাপ্তবয়স্ক, অর্থাৎ তাঁর বয়স ১৮ বছর পেরিয়েছে, এর প্রমাণ দেখাতে হবে সংশ্লিষ্ট স্বামীকে। স্কুলের সার্টিফিকেট, আধার কার্ড বা জন্মের শংসাপত্রের মতো নথি দিয়ে বয়স প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে।
আরও খবর : ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগে ফের গড়াবে চাকা, অক্টোবরে চালু হতে পারে মৈত্রী-মিতালি-বন্ধন
বাল্যবিবাহে (Child Marriage) পুরোহিত বা কাজিদের ভূমিকা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত জেল এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিয়েতে যুক্ত দুই পরিবারের সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। নাবালিকার প্রসব হাসপাতালে হলে হাসপাতালের চিকিৎসক বা আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পকসো আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সি নাবালিকার ক্ষেত্রে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হতে পারে। নাবালিকার বয়স কম হলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে এবার পরিবার থেকে শুরু করে বিয়ে সম্পন্ন করা ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধেও একযোগে পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ উপরের দিকেই রয়েছে। তৃণমূলের আমলে বাল্যবিবাহের হার অনেক গুণ বেড়েছে! এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই বাল্যবিবাহ রুখতে বড় পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার।
