কলকাতা: একসময় গ্রীষ্মের (Summer) দাবদাহ এড়াতে বহু ভারতীয়, বিশেষ করে বাঙালির একাংশ পাড়ি দিতেন বিলেতে। কিন্তু সেই ইংল্যান্ডই এখন ভয়াবহ গরমে পুড়ছে। মে মাসেই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে লন্ডনের তাপমাত্রা (London temperature)। শুধু ইউকে নয়, গোটা ইউরোপের একাধিক দেশে চলছে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ (Europe Weather)।
ইউনাইটেড কিংডমের আবহাওয়া দফতর ‘মেট অফিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে লন্ডনের কিউ গার্ডেনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছয় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। ২০১৯ সালে তৈরি হওয়া ৩৩.৩ ডিগ্রির পুরনো রেকর্ডও ভেঙে গিয়েছে। ওয়েলসেও তাপমাত্রা উঠেছে ৩২.২ ডিগ্রিতে। স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডেও মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: দশ মাস পর ১০ জন ভারতীয় নাবিককে মুক্তি দিল ইরান
মেট অফিস জানিয়েছে, সাধারণত মে মাসের শেষে ইউকে-তে গড় তাপমাত্রা থাকে ১৪ থেকে ২০ ডিগ্রির মধ্যে। সেখানে এবারে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ থেকে ১৮ ডিগ্রি বেশি। পরিস্থিতিকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলেই বর্ণনা করছেন আবহবিদরা।
তীব্র গরমের জেরে ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডের একাধিক অঞ্চলে ‘অ্যাম্বার হিট-হেলথ অ্যালার্ট’ জারি করেছে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি। লন্ডন-সহ একাধিক এলাকায় জারি হয়েছে সতর্কতা। বাড়ছে জলের চাহিদাও। সাসেক্স ও কেন্টে প্রায় ৫০০ বাড়িতে জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
শুধু ইউকেই নয়, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি-সহ ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চলছে ভয়ঙ্কর তাপপ্রবাহ। স্পেনে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৮ ডিগ্রিতে। ফ্রান্সে গরমে ইতিমধ্যেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। প্যারিস থেকে নিসগামী একটি ট্রেনে এসি বিকল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতিতে পড়েন। বহু যাত্রী রেললাইনে নেমে পড়েন বলেও জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের জেরেই এই অস্বাভাবিক আবহাওয়া। মেট অফিসের রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক দশকে ইউকে-তে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। আবহবিদদের আশঙ্কা, আগামী দিনেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
