কলকাতা: সরকার গঠনের পর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার বিধায়ক ও জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে একাধিক বিষয়ে সরাসরি নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে সিন্ডিকেট রাজ, অবৈধ বালিখাদান, কয়লা পাচার এবং গরুপাচার রুখতে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেন, “সব এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করতে হবে। অটো-টোটো স্ট্যান্ড থেকে কুপন ছাপিয়ে টাকা তোলা বন্ধ করতে হবে।”
আরও পড়ুন: মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যের দফতর বণ্টন করলেন শুভেন্দু
শুধু তাই নয়, অবৈধ বালিখাদান ও কয়লাখাদান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বীরভূম জেলার জেলাশাসককে বিশেষভাবে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার জেলায় বিশেষভাবে নজর দিন।”
১০০ দিনের কাজ নিয়েও প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা ১০০ দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন, তারা কতটা বৈধ তা খতিয়ে দেখুন। অনেকেই কাজ না করে জব কার্ড বানিয়ে টাকা তোলে।”
সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গরুপাচার রুখতেও কড়া নির্দেশ দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “অবৈধভাবে গরুপাচার হচ্ছে কি না নজর রাখুন। আজ থেকেই সীমান্ত এলাকায় অবৈধ গরুপাচার বন্ধ করতে হবে।”
প্রশাসনিক সমন্বয়ের উপরও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের নিয়মিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা অবিলম্বে শুরু করতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে স্বাস্থ্য ও খাদ্য প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “ধাপে ধাপে আয়ুষ্মান প্রকল্পের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীকে আনা হবে। ধাপে ধাপে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং স্বাস্থ্যসাথীকেও যুক্ত করা হবে।” এছাড়াও সরকারি জমি দখল সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির বার্তা দিতে চাইছে নতুন বিজেপি সরকার।
