কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বিধায়ক (MLA) ও জেলাশাসকদের বৈঠকের পরই সামনে এল নতুন বিধায়কদের শপথগ্রহণের দিনক্ষণ। সোমবার নবান্নে (Nabanna) বৈঠক শেষে জানানো হয়, আগামী ১৩ ও ১৪ মে দুই দফায় শপথ নেবেন নবনির্বাচিত বিধায়কেরা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৩ মে প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের বিধায়কেরা শপথ নেবেন। পরের দিন অর্থাৎ ১৪ মে হাওড়া, মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি বিধায়কেরা শপথ গ্রহণ করবেন।
আরও পড়ুন: সিন্ডিকেট রাজ বন্ধে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, প্রথম বৈঠকেই বিধায়ক-জেলাশাসকদের বড় নির্দেশ
উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্য ছাড়া আর কোনও বিধায়ক শপথ নেননি। গত শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে শুভেন্দুর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। সোমবার তাঁদের দফতরও বণ্টন করা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে প্রশাসনিক নানা বিষয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এলাকা এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করতে হবে। অটো-টোটো স্ট্যান্ড থেকে কুপন ছাপিয়ে টাকা তোলা বন্ধ করতে হবে।”
অবৈধ বালিখাদান ও কয়লাখাদান বন্ধ করার নির্দেশও দেন তিনি। বিশেষ করে বীরভূম জেলার জেলাশাসককে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার জেলায় বিশেষভাবে নজর দিন।” ১০০ দিনের কাজ নিয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “অনেকেই কাজ না করে জব কার্ড বানিয়ে টাকা তোলে। কারা বৈধভাবে টাকা পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে।”
একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গরুপাচার রুখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতে জেলাশাসকদের নিয়মিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই দুর্নীতি, বেআইনি কারবার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিজেপি সরকার বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
