ঝাড়গ্রাম: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে জঙ্গলমহলে প্রচারের পারদ চড়ছে ক্রমেই। রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি তারকা প্রচারকদের উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে উত্তাপ। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে (Jhargram) একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ম্যারাথন রোড শো করলেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। “ধর্ম নয়, উন্নয়ন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনের শুরুতে নয়াগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দুলাল মুর্মুর সমর্থনে গোপীবল্লভপুরে রোড শো করেন শতাব্দী। সকাল থেকেই রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমাতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। দলীয় পতাকা, ঢাক-ঢোল ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই জনসমাগমে উৎসাহিত কর্মী-সমর্থকেরা নতুন উদ্যমে প্রচারে ঝাঁপাবেন। উপস্থিত ছিলেন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ, তৃণমূল নেতা রঞ্জিত মহাকুল, সত্যরঞ্জন বারিক সহ অন্যান্যরা।
এদিন দুপুরে বিনপুর-১ ব্লকের দহিজুড়িতে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সরেনের সমর্থনে রোড শো করেন তিনি। প্রচারে মানুষের ভিড় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উপস্থিতি ভোটের আগে শাসকদলের পক্ষে ইতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে। দিনের শেষে সাঁকরাইল ব্লকের রোহিণীতে গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রের প্রার্থী অজিত মাহাতোর সমর্থনে রোড শো করেন শতাব্দী। তিনটি কেন্দ্রেই প্রায় একই ছবি—দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিনে ধারাবাহিক এই প্রচারসূচি সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে। রোড শো চলাকালীন শতাব্দী রায় বলেন, “সরকারের নানা প্রকল্পের সুবিধা মানুষের ঘরে পৌঁছেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন।” জঙ্গলমহলের উন্নয়নকে সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইয়ে এগোতে চাইছে তৃণমূল, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর বক্তব্যে।
আরও পড়ুন: বৈশাখের প্রথম দিনে কেমন থাকবে আবহাওয়া? কী পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দফতর?
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল। সেই আবহেই তিনি বলেন, “নেত্রীর নির্দেশে সব ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্য একটাই—সব কটি আসনে জয় নিশ্চিত করা।” সব মিলিয়ে, একদিনে তিনটি কেন্দ্রে তারকা প্রচারকের উপস্থিতি ও জনসমাগম তৃণমূলের সংগঠনকে চাঙ্গা করেছে বলেই মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। ভোটের আগে এই ধরনের প্রচারসূচি জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
