ওয়েবডেস্ক- বিহারের (Bihar) রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘ দু দশকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) । ২০ বছর ধরে বিহারের রাজ্যপাট সামলেছেন তিনি। একদিনে যেমন দীর্ঘ সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে গদি সামলে রাখার ক্রেডিট জুটেছে, অপর দিকে বার বার দল বদলের জন্য ‘পাল্টু রাম’ নাম জুটেছে তাঁর। নীতীশের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিহারের ক্ষমতার রাশ এখন বিজেপির হাতে, এই প্রথমবার রাজ্যে দলটির একজন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। আজ নীতীশ কুমার মঙ্গলবার তাঁর শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক সেরে বাসভবনে ফেরেন।
মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের তাঁর পদত্যাগের কথা জানান। এর পরেই তিনি মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেন। এই ইস্তফা ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। নীতীশ কুমার দুপুর তিনটে নাগাদ রাজ্যপালের কাছে তাঁর পদত্যাগ পত্র জমা দিলেন, আর বিকেল চারটের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হল। বিহারের রাজনীতিতে বর্তমান সময়ের সব থেকে চর্চিত নাম সম্রাট চৌধুরী (Samrat Chowdhury) ।
আরও পড়ুন- বিহারেও এবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী! কবে শপথ নেবেন সম্রাট চৌধুরী? দেখুন বিগ আপডেট
বিহারের রাজনীতিতে বর্তমান সময়ের সবথেকে চর্চিত নাম সম্রাট চৌধুরি। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাঁকে বিহারের ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রী। যার পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মজবুত জাতিগত সমীকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা। ১৯৯০ সালের গোড়ার দিলে সম্রাট দিকে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু হয়। মণ্ডল রাজনীতির উত্থান থেকে শুরু করে আজকের জোট রাজনীতির যুগ। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আরজেডি ও জেডিইউ হয়ে ২০১৮ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে তিনি দল বদলাননি, উল্টে প্রতিটি দলের অন্দরের সমীকরণ বুঝে নিজেকে আরও শক্তিশালী করেছেন। ১৯৯৯ সালে রাবড়ি দেবী সরকারের মন্ত্রী। ২০২৪ সালে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। বিহারের রাজনীতিতে একটি বড় অংশ জুড়ে আছে জাতপাত। সম্রাট চৌধুরী কুশওয়াহা (কৈরি) সম্প্রদায়ের মানুষ। নীতীশ কুমারের কুর্মি ও সম্রাট চৌধুরীর কুশওয়ায়া ভোটব্যাঙ্ক একজোট হলে বিহারে রাজনীতি এক অন্য গল্প লিখবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
