কলকাতা: বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও মোটের উপর শান্তিতে মিটল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচন (West Bengal Election 2nd Phase)। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪২টি আসনে ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রথম দফায় রেকর্ড তৈরি হয়। সেই রেকর্ড বজায় থাকল দ্বিতীয় দফাতেও। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) দু’দফাতেই রেকর্ড সংখ্যক ভোটের হারকে স্বাগত জানিয়েছেন। নির্বাচনের শেষে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের পর্ব, পশ্চিমবাংলার গর্ব।’
গত ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফার ভোটেই পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোট পড়েছে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেখানে ৯৩ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে। আজ সন্ধে ৬টায় শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফায় এখনও পর্যন্ত ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে।বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ভোটদানের হার ৯৫ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছে।বাংলার মানুষ যেভাবে নিজে থেকেই এগিয়ে এসে দলে দলে ভোট দিয়েছেন, তাতে খুশি হয়ে তাঁদের মন থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার। তাঁর কথায়, গরম বা নানা বাধা সামলেও বাংলার মানুষ যেভাবে দলে দলে ভোট দিতে এসেছেন, তা সারা দেশের কাছে একটা বড় দৃষ্টান্ত।মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এ বছরই রাজ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ ভোটদান রেকর্ড করা হয়েছে।তিনি একে ‘ভোটের উৎসব, পশ্চিমবঙ্গে ও সামগ্রিকভাবে বাংলার গর্ব’ (Chunav ka Parv, Paschim Bengal ka Garv) বলে অভিহিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘বিজেপির কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডা’, মন্তব্য অভিষেকের
সকাল থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি, গোলমাল অবশ্যই হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের চেষ্টায় কিছু ক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিকও হয়েছে। দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রে গোলমাল ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে মোট ৬৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির নিরিখে শীর্ষে রয়েছে ব্যারাকপুর, যেখান থেকে ৭৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, যেখানে গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৪ জনকে। শেষ দফায় রাজ্য তথা দেশের নজর ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রে। কারণ, যুযুধান দুই প্রার্থী। তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আসনে এ বার লড়াই করতে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর জেতা বিধানসভা নন্দীগ্রামে লড়াই করতে যান মমতা। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে শুভেন্দুর উদ্দেশে তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ‘চোর-চোর’ কটাক্ষের পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। কিছু ক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভোটের ভবানীপুর। লাঠিচার্জ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তার পর আর বিশেষ গন্ডগোল দেখা যায়নি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়েও তা-ই। আইএসএফ প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে দেখে বিক্ষোভ দেখান শাসকদলের কর্মীরা। তবে ওই পর্যন্ত। ভোটের সময় ভাঙড়ের ‘চেনা ছবি’ এ বার দেখা যায়নি। মোটের উপর বিকেল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে ওই বিধানসভায়। হুগলির গোঘাটে কিছু ক্ষণের জন্য অশান্তি হয়েছিল। সেখানেও প্রশাসন, বাহিনীর চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গিয়েছে। উদয়নারায়ণপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার কুরিট গ্রামের ২৪৫ নম্বর বুথের ঘটনা। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম পূর্ণচন্দ্র দলুই (৮০)। বাহিনীর হাতে সাতগাছিয়ায় এক শিশুও আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ ভোটার, মহিলাদের লাঠিপেটা করার অভিযোগ আসছে বাহিনীর বিরুদ্ধে।
