নয়াদিল্লি: বিধানসভার পর লোকসভাতেও (Lok Sabha Speaker) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাতছাড়া তৃণমূল। ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে। সূত্রের খবর, আপাতত ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদের সই করা চিঠি জমা পড়েছে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) নেতৃত্বে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Lok Sabha Speaker Om Birla) কাছে চিঠি জমা দিলেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। শোনা যাচ্ছে, ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সংখ্যাটা বেড়ে ২১ হতে পারে।
রাজধানীতেও বিদ্রোহের আগুনে পুড়ছে তৃণমূল। কার্যত নিশ্চিত সংসদীয় দলের ভাঙন। মমতা-অভিষেক যখন দিল্লিতে তখন সেখানেই ভেঙে টুকরো টুকরো তৃণমূল। সোমবার সকালে রাজ্যসভার সাংসদ পদ ও তৃণমূলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে বিদ্রোহীদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। যে সংখ্যক সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। বর্তমানে তৃণমূলের লোকসভায় ২৮ এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন সাংসদ রয়েছেন। অর্থাৎ, লোকসভায় কমপক্ষে ১৯ জন, রাজ্যসভায় কমপক্ষে ৮ জন বিদ্রোহীর প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:ঋতব্রতের বিরোধী দলনেতা পদপ্রাপ্তি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের শোভনদেবের
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে আলাদা দল গঠনের আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এনডিএ জোটের শরিক হবে এই নতুন দল। স্পিকারের অনুমতি পেলেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভাঙবে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল। অন্যদিকে রাজ্যসভায় সুখেন্দুশেখর রায়ের পর রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিককে নিয়েও বাড়ছে জল্পনা। সব মিলিয়ে, যত দিন যাচ্ছে আরও একা হচ্ছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। হাতেগোনা আদি তৃণমূল ছাড়া কেউ নেই তার পাশে। এরই মাঝে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মমতা অভিষেক। বিরোধী জোটের অংশ হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ভেসে থাকার চেষ্টা? ঝড়ের দাপটে খড়কুটো বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন তৃণমূল সুপ্রিমো?
সূত্রের খবর, তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক হিসাবে চিঠি দিয়েছেন কাকলি। যদিও দলীয় বৈঠকে কাকলির বদলে কল্যাণকে চিফ ঘোষণা করেছিলেন মমতা। কিন্তু অধিবেশন না চলার কারণে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা স্পিকারের দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে কল্যাণ বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারের দফতরে আগেই জানানো হয়েছিল।”লোকসভার স্পিকারকে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের এই চিঠি পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে আসার আগে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বিদ্রোহী সাংসদেরা। সূত্রের খবর, সেখানে কাকলি, শতাব্দীর পাশাপাশি ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকারেরা।
