ওয়েব ডেস্ক: প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা এবং আধুনিক জীবনযাত্রার জন্য গোটা বিশ্বের কাছে উদাহরণ জাপান (Japan)। অথচ সেই দেশই এখন এক অদ্ভুত সঙ্কটের মুখে। বাড়ি রয়েছে, কিন্তু সেখানে থাকার মানুষ নেই। ক্রমশ বাড়ছে পরিত্যক্ত বাড়ির সংখ্যা। আর সেই কারণেই জাপানের বহু এলাকা ধীরে ধীরে ‘ঘোস্ট টাউন’-এ (Ghost Town) পরিণত হচ্ছে।
জাপানে এই পরিত্যক্ত বাড়িগুলিকে বলা হয় ‘আকিয়া’। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশে এমন ফাঁকা বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৯০ লক্ষ। অর্থাৎ জাপানের মোট বাড়ির প্রায় ১৪ শতাংশই এখন খালি পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে জনসংখ্যা হ্রাস, কমে যাওয়া জন্মহার এবং দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা সমাজ।
আরও পড়ুন: আমেরিকাকে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হল ইরান!
গ্রামাঞ্চল থেকে তরুণ প্রজন্ম কাজের খোঁজে শহরে চলে যাচ্ছে। ফলে গ্রামের বাড়িগুলি ফাঁকা হয়ে পড়ছে। আবার বহু বৃদ্ধের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা সেই বাড়িতে থাকতে চান না। অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো বাড়ি সংস্কারের খরচ এত বেশি যে, সেগুলি ফেলে রাখাই সহজ বিকল্প হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নয়া পরিকল্পনাও নিচ্ছে জাপান সরকার। কোথাও প্রায় বিনামূল্যে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার বিদেশিদের বসবাসে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবুও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দিনে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। কারণ জাপানে জন্মহার ক্রমশ কমছে। অন্যদিকে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। ফলে শুধু অর্থনীতি নয়, শহর পরিকল্পনা এবং সামাজিক কাঠামোর উপরও বড় প্রভাব পড়ছে।
এক সময় জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকাগুলিতে এখন তালাবন্ধ বাড়ি, আগাছায় ঢেকে যাওয়া উঠোন আর জনশূন্য রাস্তা- জাপানের এই বদলে যাওয়া ছবি কার্যত নতুন এক সামাজিক সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
