ওয়েব ডেস্ক : TET নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পর থেকেই রাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, এই নির্দেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে সামনে রেখে এবার রাজ্য সরকারের কাছে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ।
এই দাবিতেই স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণকে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ। তাঁদের আবেদন, তামিলনাড়ুর মতো পশ্চিমবঙ্গ সরকারও কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের দাবি জানাক। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসা প্রবীণ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে TET বাধ্যতামূলকতা শিথিল করার জন্য দ্রুত উদ্যোগের আর্জি জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে শিক্ষক হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে TET উত্তীর্ণ হওয়ার শংসাপত্র প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলে চাকরি নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে অবসরের পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি থাকা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্দেশ থেকে ছাড় রাখা হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, দেশজুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ এবং বাংলায় প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক এই সমস্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন।
আরও খবর : নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরও খোঁজ নেই ৩৬ বাঙালির, প্রিয়জনের ফোনের অপেক্ষায় পরিবার
এদিকে তামিলনাড়ু ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর পথে এগিয়েছে। সে রাজ্যের বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় ২০১০ সালের ২৩ অগস্টের আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের TET-এর বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করা কর্মীদের এই বয়সে নতুন করে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হলে চাকরি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং পেনশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, বারবার আবেদন জানিয়েও এখনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। রাজ্য সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ না করলে আগামী সেপ্টেম্বর দিল্লির যন্তর মন্তরে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, ‘তামিলনাড়ু পারলে রাজ্য সরকার কেন পারছে না?’
