ওয়েব ডেস্ক: সিকিমের (Sikkim) নামচি জেলার নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ ও ধসের (Landslide) ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ল। সূত্রের খবর, উদ্ধার অভিযানের সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কয়েকটি দেহের সন্ধান মিলেছে। যপ্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, মৃতের সংখ্যা অন্তত ২০-এ পৌঁছেছে। মৃতদের মধ্যে বাংলার একাধিক শ্রমিক রয়েছেন বলেও অনুমান করা হচ্ছে। তড়িঘড়ি দু’জন বিধায়ককে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। তবে সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস, জল ও কাদা উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া উদ্ধারকারী দল ভিতরে প্রবেশ করতে পারছে না। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উদ্ধার অভিযানের সময় কয়েকজন কর্মীও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও খবর : মোদির আশ্বাসে আপাতত স্থগিত দিল্লি অভিযান, শম্ভু সীমান্ত থেকে অবরোধ তুলে ফিরলেন কৃষকরা
এদিকে, ঘটনার দিন মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছিল। তাঁদের অধিকাংশের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহকুমায়। আরও কয়েকজন বাংলার শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা এবং কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে সিকিমে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, উদ্ধারকাজের বিষয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের বিমানও পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, মিথেন গ্যাস জমে থাকার জেরে বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গের একাংশ ধসে পড়ে। ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে সিকিম সরকার। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন।
