ওয়েব ডেস্ক: একটানা বৃষ্টিতে ফের ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা পাহাড়ে। পশ্চিম সিকিমের গিয়ালশিং জেলার সিঙ্গলিথাম ও সংলগ্ন রিম্বি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসে কার্যত বসে যেতে শুরু করেছে পাহাড়ের ঢাল (Sikkim Landslide)। উপর থেকে গলগলিয়ে নেমে আসছে কাদা, মাটি ও বড় বড় পাথর। ফলে স্থানীয় ঝোরা অবরুদ্ধ হয়ে ভয়ঙ্কর হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
রবিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই রিম্বির ৩০টি এবং সিঙ্গলিথামের ৮টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সিঙ্গলিথাম গ্রামের কাছে রিম্বির উপরের একটি টিলা দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে বসে যাচ্ছে। অগস্ট মাস থেকেই সেখানে ভূমিধস শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। বর্ষার টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল আরও নরম হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। কাদা, মাটি, পাথর এবং উপড়ে যাওয়া গাছের স্রোত নীচের দিকে নেমে আসছে।
ইতিমধ্যেই ধসের ধ্বংসস্তূপে বেশ কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিম্বি-ইউকসম এবং রিম্বি-খেচুপেরি সড়কের একাধিক অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে ইউকসম-তাশিডিং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গলিথামের একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও কয়েকটি বাড়িকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা-পাথর ও গাছের ধ্বংসাবশেষ স্থানীয় ঝোরার গতিপথ আটকে দিলে আচমকা জল নেমে এসে নীচের রিম্বি এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে। ফলে পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।
