12.1 C
New York

চলচ্চিত্রকার নন, এক কালজয়ী প্রতিষ্ঠান, জন্মদিনে ‘মহারাজা’কে সেলাম

Must Read

কলকাতা: “সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) শুধু চলচ্চিত্রকার নন, এক কালজয়ী প্রতিষ্ঠান। জন্মদিনে মহারাজা-কে সেলাম।” “বাঙালির অনুভূতিতে, কল্পনায় আর চলচ্চিত্রের ফ্রেমে আপনি আজও অমলিন।”ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম সত্যজিৎ রায় যিনি শুধু একজন পরিচালক নন, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।ছবি দিয়ে তো সত্যজিৎকে বাঁধা সম্ভব নয়। তাঁর মূল্যায়নও সম্ভব নয়। ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় তাঁর জন্ম। আজ তাঁর ১০৫তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর সৃষ্টি ও ভাবনা শুধু বাঙালির মননকেই নয়, সমগ্র বিশ্ব সংস্কৃতিকেই সমৃদ্ধ করেছে। চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান বিশ্ব সমাদৃত। সকাল থেকেই বিশপ লেফরয় রোডের বাড়িতে বহু মানুষের সমাগম।আজও সকাল থেকেই রায় বাড়িতে ছিল বহু মানুষের ভিড়। যে ভিড় নেমে এসেছে রাস্তাতেও৷ ‘মহারাজা’র জন্মদিনে সেলাম জানাতে লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাধারণ মানুষের ৷ সকাল থেকে এই বাড়ি জুড়ে উৎসবের মরশুম।

বাঙালির দেশজ জীবনের শিকড় ছুঁতে পেরেছিলেন সত্যজিৎ রায়। বিশ্বময় পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন তাঁর শিল্পসত্ত্বাকে। তৈরি করেছেন তাঁর নিজস্ব শিল্পবোধ, নিজস্ব চলচ্চিত্র ভাষা। বিশেষ করে পর্দায় যে চরিত্রদের তিনি হাজির করাতেন, তারা নানা অনুভূতিতে বাঁধা। অনেকেরই আপসোস সত্যজিতের মতো একজন স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়া হয়নি। তাঁর ক্যামেরার লেন্সে অপু, ফেলুদা আর শঙ্কু জীবন্ত হয়ে উঠেছে।তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, চিত্রনাট্যকার ও সুরকার। বাংলা সাহিত্যে তাঁর সৃষ্টি বিশেষ করে ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কুর মতো চরিত্র পাঠকদের মনে আজও সমান জনপ্রিয়। বাঙালি আজও যাদের নস্টালজিয়াকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে, সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray lifetime achievement award) সেইরকম একজন মাইলস্টোন। তাঁর বীক্ষণ, শিক্ষা আর চেতনা কী প্রবাহিত হয়েছে বাঙালির শিরায় ধমনীতে?ধর্মীয় গোঁড়ামি, আর অন্ধবিশ্বাসের যূপকাষ্ঠে সত্যজিৎ রায় আঘাত করেছিলেন ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: আসছে প্রসেনজিতের নতুন সিনেমা…

প্রতি বছরের মতো, এই দিনটায় বিশেষভাবে ব্যস্ত থাকেন সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ ৷ সকাল থেকেই অতিধি ও সাধারণ মানুষের ভিড় হতে থাকে৷ সকলের সঙ্গে কথা বলা থেকে পুরনো স্মৃতি আলোচনা, তৈরি হয় এক অপরূপ সন্ধিক্ষণ৷ তিনি বলেন, “এএক সাংঘাতিক অনুভূতি ৷ আমরা এই দিনটার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি৷শুধু সেই সময় না, তার আগেও ক্রিয়েটিভ কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে, প্রাইভেসি বজায় থাকতে সত্যজিৎ রায় তাঁর অধিকাংশ জন্মদিনেই একটি পাঁচতারা হোটেল বুক করে নিতেন। জন্মদিনের আগের দিন থেকে সেখানে গিয়ে থাকতেন। তিনি গোটা দিনটাই স্ক্রিপ্ট লিখে কাটাতেন। তাঁর জন্মদিন সংক্রান্ত উৎসব মিটে গেলে তিনি ফিরতেন।জন্মদিনের দিন সম্পূর্ণ একা থাকতেন না সত্যজিত রায়। তাঁর পুত্র সন্দীপ রায় বাড়িতে থাকলেও, অস্কারজয়ী পরিচালকের স্ত্রী বিজয়া রায় তাঁর সঙ্গে হোটেলে গিয়ে থাকতেন। আর এদিকে বাড়িতে আগত সমস্ত অতিথি এবং সত্যজিৎ অনুরাগীদের সঙ্গে দেখা করতেন, কথা বলতেন সন্দীপ রায়। সত্যজিৎ রায় রেস্টোরেশন কাজ প্রসঙ্গে পুত্র সন্দীপ বলেন, “সেই কাজ বিদেশেও চলছে, এখানেও চলছে ৷ যেটা খুব দরকার বলে আমার মনে হয় ৷ কারণ সংরক্ষণের তো একটা প্রয়োজন আছে ৷ আমরা ইতিমধ্যেই কাগজপত্রগুলো ডিজিটাইজ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগোচ্ছি ৷ বাবার প্রচুর কাগজের ওপর কাজ রয়েছে ৷ আঁকা থেকে লেখা সবকিছু ৷ সবকিছু নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত ৷”

Latest News

ভোট মিটতেই মেমারীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা

মেমারি: ভোট মিটতেই মেমারিতে (Memari) রাজনৈতিক উত্তেজনা। তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পড়ল হুমকির পোস্টার! মেমারিতে ভোটের আবহ কাটতে না কাটতেই...

More Articles Like This