ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) বড়সড় ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। তৃণমূলের সংসদীয় দলের একাংশ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর (NDA) সঙ্গে হাত মেলাতে উদ্যোগী হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই সামনে এসেছে আরও এক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য। সূত্রের দাবি, যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষও (Saayoni Ghosh) নাকি ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন।
সোমবার সকালে দিল্লিতে বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তৃণমূলের একদল ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ। বৈঠকের পর তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ২০ জন সাংসদ ওই চিঠিতে সই করেছেন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮। ফলে দলের অধিকাংশ সাংসদই যদি ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে চলে যান, তবে সংসদীয় দলে বড়সড় রদবদল অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: দিদি যতদিন বেঁচে, পাশে আছি’, ‘নতুন তৃণমূল’ নিয়ে কী দাবি দেবের?
এই পরিস্থিতিতে সায়নী ঘোষের অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। একসময় বামপন্থী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত সায়নী পরবর্তীকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় সংগঠনে তাঁর গুরুত্ব বাড়ে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর তিনি তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত নতুন দলীয় কমিটিতে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্বও পান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গত কয়েক বছরে সায়নী ঘোষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবেই দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তনের খবর রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দেখুন আরও খবর:
