ওয়েব ডেস্ক : ব্রিকস সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। তাঁর দিল্লি সফরের সঙ্গে নজর কেড়েছে রাশিয়ার বিশেষ প্রেসিডেন্ট বিমান। ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ (Flying Kremlin) নামে পরিচিত এই বিমানকে অনেক সময় ‘ডুমসডে প্লেন’ও বলা হয়। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই বিমান শুধু প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশপথে একটি চলমান কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারে।
পুতিনের ভারত সফরে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একই ধরনের দু’টি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান। দু’টি বিমান একই সময়ে উড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কোন বিমানে রুশ প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, তা বাইরে থেকে বোঝা কঠিন করাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। বিদেশ সফরে পুতিনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক উড়ান আগে থেকেও ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ায় (Russia) তৈরি আইএল-৯৬ বিমানের বিশেষভাবে পরিবর্তিত সংস্করণ হল এই প্রেসিডেন্ট বিমান। চারটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে চালিত বিমানটি প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তি এতে যুক্ত করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। সংকটের সময় রাশিয়ার (Russia) সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি রয়েছে বিমানে। উপগ্রহ যোগাযোগ, সুরক্ষিত বেতার ও তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা এবং শত্রুর রাডার ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করার প্রযুক্তিও এর নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ।
যুদ্ধ বা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব যাতে দেশের প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেও বিমানটিকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এই কারণেই সাধারণ প্রেসিডেন্ট বিমানের তুলনায় এর নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক বেশি উন্নত। তবে শুধু নিরাপত্তাই নয়, বিলাসিতার দিক থেকেও নজরকাড়া এই বিমান। এর ভিতরে রয়েছে ব্যক্তিগত থাকার ব্যবস্থা, শোওয়ার ঘর, উন্নতমানের বাথরুম, রান্নাঘর, খাবারের জায়গা এবং বড় বৈঠক করার জন্য আলাদা কনফারেন্স কক্ষ। ফলে একই বিমানে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘ সফরের প্রয়োজনীয় আরাম, সবকিছুর ব্যবস্থা রয়েছে।
