ওয়েব ডেস্ক : ব্রিকসের এবারের শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit) ঘিরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের (India) ভিন্ন অবস্থান। একদিকে চীন ও রাশিয়া-সহ কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের (Dollar) প্রভাব কমানোর পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে সওয়াল করছে। অন্যদিকে ভারত সরাসরি ডলারকে চ্যালেঞ্জ করার কোনও উদ্যোগে যেতে চাইছে না। বরং আন্তর্জাতিক লেনদেনের বিকল্প পরিকাঠামোকে আরও কার্যকর করে তোলার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
ভারতের এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে ডিজিটাল মুদ্রা (Digital Money)। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যে সংযোগ তৈরির প্রস্তাব এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। এর মাধ্যমে এক দেশের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করে অন্য সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ডলারকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং আন্তর্জাতিক লেনদেনে যে অতিরিক্ত সময়, খরচ এবং মধ্যবর্তী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়, তা কমানো। বিশেষ করে ব্রিকসের দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য ও পর্যটন সংক্রান্ত অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও খবর : ১২ বছর সেনাবাহিনীতে, রাষ্ট্রপতির প্রাক্তন এডিসি কেন বিয়ে করেননি? রিশভের কথায় উঠে এল বড় ত্যাগের কাহিনি
২০২৫ সালের ব্রিকস (BRICS Summit) সদস্য দেশগুলির বিভিন্ন লেনদেনের ব্যবস্থাকে আরও পরস্পর-সংযুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছিল। সেই ভাবনাকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেই ভারতের ডিজিটাল মুদ্রা সংক্রান্ত প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। প্রতিটি দেশের ডিজিটাল মুদ্রার প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আর্থিক নিয়ম আলাদা। সেই ব্যবস্থাগুলিকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্যের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির মধ্যে নীতিগত সমঝোতাও প্রয়োজন হবে।
আরও একটি বড় প্রশ্ন বাণিজ্যের ভারসাম্য নিয়ে। ব্রিকসের দেশগুলির মধ্যে কে কতটা পণ্য কিনছে এবং কতটা বিক্রি করছে, তার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়লেও কোনও একটি দেশের মুদ্রা অন্য দেশের হাতে অতিরিক্ত পরিমাণে জমে যেতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বা অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে।
অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রা চালুর বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায়নি। ভারতের বর্তমান অবস্থানও সেই পথ থেকে অনেকটাই দূরে। দিল্লি বরং প্রতিটি দেশের নিজস্ব মুদ্রা এবং ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক লেনদেন সহজ করার পক্ষে।
