ওয়েব ডেস্ক : পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে দুই হিন্দু নাবালিকা বোনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টান্ডো আল্লাহইয়ার জেলার একটি আদালতের বাইরে দুই বোনকে (Hindu Minors) কাঁদতে দেখা যায়। তাঁদের বারবার বলতে শোনা যায়, তাঁরা বাড়ি ফিরে যেতে চান। সাংবাদিক ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের দাবি, দুই বোনের বয়স ১৩ ও ১৪ বছর।
পরিবারের অভিযোগ, সীতা ও রূপি নামে ওই দুই বোনকে অপহরণ করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। এরপর তাঁদের আমজাদ সোলঙ্গি এবং মনসুর সোলঙ্গি নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে তাঁদের বয়স, নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতি, ধর্মান্তর এবং বিয়ের বিষয়গুলি নিয়ে প্রকাশ্যে থাকা পুলিশ বা আদালতের নথিতে এখনও স্বাধীনভাবে সব তথ্য নিশ্চিত হয়নি।
আরও খবর : প্রায় ৩০ বছর পর নিলামে উঠছে প্রিন্সেস ডায়ানার ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’, দাম কত উঠতে পারে?
আদালত দুই বোনকে তাঁদের বাবা মায়ের সঙ্গে বাড়ি পাঠানোর পরিবর্তে দু’দিনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরেই আদালতের বাইরে তাঁদের কান্নার ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। অধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, মামলার প্রতিটি পর্যায়ে নাবালিকাদের বয়স, তাঁদের নিজের বক্তব্য এবং নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার একদিন পর আরও এক ১৪ বছরের হিন্দু কিশোরী প্যানসি কোহলিকে টান্ডো আল্লাহইয়ার থেকে অপহরণের অভিযোগ সামনে আসে। এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দাবি, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ওই জেলায় ছয় জন হিন্দু নাবালিকা অপহরণ ও ধর্মান্তরের শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই সংখ্যার স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ ফাইলের তথ্যে নেই।
সিন্ধেই পাকিস্তানের অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে হিন্দু তরুণীদের অপহরণ, ধর্মান্তর এবং বিয়ের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কোহলি, ভীল এবং মেঘওয়ারের মতো প্রান্তিক সম্প্রদায়ের পরিবারগুলি আইনি সহায়তা ও প্রশাসনিক পরিষেবায় সীমিত সুযোগের কারণে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের দাবি।
