কলকাতা: ছেলেকে শেষবার চোখের দেখা দেখার ইচ্ছা ছিল মায়ের। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হল না। দীর্ঘদিন ধরে জেলে বন্দি বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (Chinmoy Krishna Das) মা সন্ধ্যা রানী ধর বৃহস্পতিবার মারা গেলেন। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে অসুস্থ মাকে দেখতে ছেলের জন্য প্যারোল চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। মায়ের মৃত্যুর পর অবশ্য পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল পেলেন চিন্ময়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছরের সন্ধ্যা রানী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করে চিন্ময়কে শর্তসাপেক্ষে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। তবে অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে বন্দিকে প্যারোল দেওয়ার আইনি ব্যবস্থা নেই বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল।
পরের দিনই মৃত্যু হয় সন্ধ্যা রানীর। খবর পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পাঁচ ঘণ্টার জন্য জেল থেকে বের হওয়ার অনুমতি পান চিন্ময়। চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামে মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছে আবেগ সামলাতে পারেননি চিন্ময়। রাধা-কৃষ্ণের মূর্তির সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মূর্তির চরণে মাথা রেখে দীর্ঘক্ষণ কাঁদতেও দেখা যায় তাঁকে।
পরিবারের এক সদস্যের দাবি, ছেলের দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রানী। ছেলের জামিন না হওয়া এবং জেল থেকে মুক্তি না পাওয়ার দুশ্চিন্তাও তাঁকে কষ্ট দিত বলে পরিবারের দাবি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলার কারণে এখনও মুক্তি মেলেনি। চট্টগ্রামে এক সরকারি কৌঁসুলি হত্যার ঘটনাকে ঘিরে একটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে দেখা না হওয়ার আক্ষেপের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত তাঁর অন্ত্যেষ্টিতে যোগ দিলেন চিন্ময়। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এই শোকের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
