ওয়েব ডেস্ক : নেপাল-চিন সীমান্তে হঠাৎ নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বানে তছনছ একাধিক এলাকা। ভোটেকোশী নদীর প্রবল স্রোতে বহু গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপর্যয়ের পর থেকেই নেপালে (Nepal) থাকা পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকদের (Tourist) নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করেও প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৩৬ জন পর্যটকের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের তালিকায় কলকাতা, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান এবং দার্জিলিং জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার উদ্দেশ্যে নেপালে পৌঁছেছিলেন। কলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই পর্যটক রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। গত ২১ অগস্ট একটি ৩০ সদস্যের দলের সঙ্গে নেপাল যান তাঁরা। কাঠমান্ডু থেকে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে মানস সরোবরের দিকে রওনা দেয়। এরপর থেকেই পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
আরও খবর : নেপালে হঠাৎ এই দুর্যোগের আসল কারণ কী জানেন?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুরও কোনও খোঁজ নেই। বিপর্যয়ের আগে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা এবং অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিবারের কাছেও এখনও কোনও নিশ্চিত খবর পৌঁছয়নি। দুর্গাপুর থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে মোট ছ’জন নেপালে (Nepal) গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
হুগলির তারকেশ্বরের স্নেহাশিস দত্ত এবং শিলিগুড়ির সমর মণ্ডলের পরিবারও একই উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। স্নেহাশিসের সঙ্গে শেষ কথা হয় বুধবার সকালে। অন্যদিকে, কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়া সমরের সঙ্গে মঙ্গলবার শেষ বার কথা হয়েছিল পরিবারের। হাওড়ার সাঁকরাইলের ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নিখোঁজ। বহু বছর ধরে তাঁর কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এখন তাঁর পরিবার অপেক্ষা করছে একটি ফোনের জন্য। নেপালের বিপর্যয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজ পর্যটকদের সঠিক অবস্থান জানতে সমস্যায় পড়ছেন পরিবার ও প্রশাসন। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে, উৎকণ্ঠাও তত বাড়ছে। এদিকে আরও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।
