7.4 C
New York

‘নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, সব অধিকার দেওয়া হবে, মতুয়াদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে মোদির ‘গ্যারান্টি’

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে হাইভোল্টেজ প্রচারে ঝড় তুলতে বঙ্গে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রবিবার ভোটপ্রচারে মতুয়াদের মন জিততে বনগাঁর ঠাকুরনগরে পৌঁছে যান মোদি। ‘জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা’ বলে বনগাঁর ঠাকুরনগরে (Matuas Thakurnagar) বক্তৃতা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই রাজা রামমোহন রায়, রামকৃষ্ণদেব-সহ বাংলার মণীষীদের কথা স্মরণ করলেন তিনি।মোদির বক্তৃতায় উঠে আসে দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাণী। ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’ বাণী স্মরণ করিয়ে মোদি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিন, আমি আপনাদের তৃণমূল শাসন থেকে স্বাধীনতা দেব।’

এদিন ঠাকুরনগরের নির্বাচনী জনসভায় আগাগোড়া তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে আক্রমণ শানান মোদি। তাঁর বক্তব্য, “এ রাজ্যে মহিলাদের সবেচেয়ে বেশি ধোঁকা দিয়েছে তৃণমূল সরকার। তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলেন বাংলার মা-বোনেরা। এই অন্যায় আর বরদাস্ত করা হবে না, এবার অত্যাচারীদের হঠাতেই হবে।” ‘‘বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতি বছর মহিলাদের বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেবে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের লাভ পাবে মহিলারা।’’‘‘মহিলারা প্রতি বছর যাতে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করতে পারেন, তাই ৭৫ লক্ষ মহিলাকে সুবিধা দেওয়া হবে। স্যালোঁ, ধাবা, হোটেল খুলতে চাইলে ব্যাঙ্ক থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ব্যাঙ্ককে গ্যারান্টি দেবে আপনাদের ভাই মোদি।’’

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া! জানাল হাওয়া অফিস

তৃণমূলকে বিঁধে মোদি বলেন, জঙ্গলরাজে পীড়িত হয়েছে বোনেরা। তাঁদের চোখে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সন্দেশখালিতে বোনেদের নির্যাতন করেছে গুন্ডারা। তাদের সমর্থন করেছে তৃণমূল। বোনেদের গালিগালাজ করা হয়। এটা ভুলবেন না। মেয়েরা নিখোঁজ হচ্ছে এই সরকারের আমলে। মহিলাদের চিন্তা করে না তৃণমূল। গুন্ডা, ধর্ষকদের ৪ মের পরে হিসাব করবে বিজেপির সরকার। আর সহ্য করবেন না। অত্যাচারীদের সরিয়ে দেব।তৃণমূলের আমলে ছোট গুন্ডারাও নিজেদের সরকার ভাবে। হুগলি নদীর এপারের এলাকায় ছিল কারখানা। আজ সেখানে তালা পড়ার নোটিস আসে।ওদের এখান থেকে যেতেই হবে। এই সরকার হঠাতে হবে। তাই বাংলার একটাই সিদ্ধান্ত, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বাংলার কাছে সব কিছু রয়েছে। সামর্থ রয়েছে। তাই দেশের এক নম্বর রাজ্য হতে পারে। তিনি বলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। দেশের মানুষ সব উজার করে দেন। আশীর্বাদ দিন, ভোট দিন, আমরা তৃণমূল থেকে মুক্তি দেব। জঙ্গলরাজ, ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশকারী থেকে মুক্তি দেব।’’

মোদির মুখে আই-প্যাক মামলা প্রসঙ্গ।বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করছিল। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এই কাজ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতি বলেও মেনেছে আদালত।’’ মোদীর দাবি, সম্প্রতি কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে সব কিছুতে ‘জোর থাপ্পর’ খেয়েছে তৃণমূল। এদিন মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে মোদি বলেন, তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলেন বাংলার মা-বোনেরা। এই অন্যায় আর বরদাস্ত করা হবে না, এবার অত্যাচারীদের হঠাতেই হবে।” এই প্রসঙ্গ টেনেই মোদি বলেন, “মা-মাটি-মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। এখন আর মা-মাটি-মানুষের কথা বলে না। কারণ মা-মাটির কথা বলতে গেলেই তৃণমূলের সব পাপ প্রকাশ্যে চলে আসবে।” ভোটের প্রচারের একেবারে শেষ পর্যায়ে, রবিবার ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির (Matuas Thakurnagar) আঙিনায় জনসভা করলেন মোদি।ভোটবঙ্গে বড় ফ্যাক্টর মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক। এদিন ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে মতুয়াদের মন জয়ে মরিয়া চেষ্টা চালান মোদি।

আরও পড়ুন: ‘ঘোড়া কেনাবেচার ছক বিজেপির’, অপারেশন পদ্মের আশঙ্কায় ভোটারদের সতর্কবার্তা মমতার

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে একই জায়গায় সভা করেছিলেন তিনি। সেই সময়ে তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের ‘বড়মা,’ প্রয়াত বীণাপাণি ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নেন এবং মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ ঠিকমতো শুরুই করা যায়নি বলেই দাবি অনেকের। এ নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ ছিলই। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ‘দেশভাগ থেকে আজ পর্যন্ত সব শরণার্থীরা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের চিন্তা করা ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। সে জন্য সিএএ আনা হয়েছে। এর আগে সেই কাজ কেন হয়নি? মতুয়া, নমশূদ্রদের বলব, আপানদের নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, কাগজ দেওয়া হবে, সব অধিকার দেওয়া হবে, যা ভারতের সব নাগরিকেরা পান। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’

Latest News

অবাধ, সুষ্ঠু , শান্তিপূর্ণ নির্বাচন লক্ষ্য, দ্বিতীয় দফায় অলিগলিতেও বাইকে ঘুরবে CAPF

কলকাতা: ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোট। প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত গোলমাল ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোটই হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। দ্বিতীয়...

More Articles Like This