ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি (West Asia Conflict) এবং জ্বালানি সংকটের আবহে দেশবাসীর উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রবিবার তিনি একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের আবেদন জানিয়েছেন, তেমনই আগামী এক বছর সোনা না কেনার কথাও বলেছেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের সঙ্গে সোনা কেনা কমানোর সম্পর্ক কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে গভীর উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে আমদানি নির্ভর ভারতের উপর চাপও বেড়েছে কয়েকগুণ।
আরও পড়ুন: ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম করুন, সোনা কিনবেন না’, দেশবাসীকে আর্জি মোদি’র
ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। এই আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ হয়। একইসঙ্গে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ। অর্থাৎ সোনা কেনা বাড়লে বিদেশ থেকে আরও বেশি সোনা আমদানি করতে হয়, যার ফলে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।
অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা, বর্তমানে তেলের বাড়তি আমদানি বিল সামলাতেই চাপের মুখে পড়েছে দেশের ডলার ভাণ্ডার। এই পরিস্থিতিতে সোনা আমদানিও যদি একইভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে ডলারের উপর চাপ আরও বাড়বে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে টাকার মূল্যে। ডলারের তুলনায় টাকা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হবে।
রবিবার তেলেঙ্গানার এক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।” পাশাপাশি তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন করেন, “আগামী এক বছর বিয়ের জন্য সোনা কিনবেন না।”
ভারতের মতো দেশে সোনা শুধু অলঙ্কার নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগের সঙ্গেও জড়িত। বিশেষ করে বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে সোনা কেনা দীর্ঘদিনের রীতি। সেই জায়গা থেকেই মোদির এই আবেদন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।
