অসুর নেই, সিংহও নেই! দুই হাতের দেবী, মুখদর্শন নিষেধ পরিবারের, মন্তেশ্বরের দত্তবাড়ির পুজো ঘিরে রহস্য

Must Read

পূর্ব বর্ধমান: কোথাও দশভুজা দুর্গা, কোথাও আবার সাবেকি একচালার প্রতিমা। কিন্তু মন্তেশ্বরের মাসডাঙার দত্তবাড়ির দুর্গাপুজোর রীতি একেবারেই আলাদা। এখানে দেবী পূজিতা হন অভয়া রূপে। প্রতিমার হাত মাত্র দু’টি। নেই অসুর, নেই সিংহও। আরও বিস্ময়কর, পরিবারের কোনও সদস্যই দেবীর চক্ষুদানের পর থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিমার মুখ দর্শন করতে পারেন না।

মামুদপুর-২ পঞ্চায়েতের মাসডাঙায় দত্ত পরিবারের এই পুজো কয়েক শতাব্দী প্রাচীন বলে প্রচলিত। কথিত আছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে পরিবারের এক কর্তা দেবী অভয়ার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই স্বপ্নে খড়ি নদীতে ভেসে আসা কাঠের পাটাতন তুলে এনে শাস্ত্র মেনে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ মেলে। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় পুজো।

এই প্রতিমার গঠনেও রয়েছে বিশেষত্ব। দেবী এখানে দশভুজা নন, দ্বিভূজা। তাঁর সঙ্গে থাকেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। পাশাপাশি রয়েছেন জয়া ও বিজয়া। তবে প্রচলিত দুর্গাপ্রতিমার মতো মহিষাসুর বা সিংহের উপস্থিতি নেই।

দেবীকে ঘিরে পরিবারের নিষেধের পিছনেও রয়েছে একটি লোককথা। কথিত, বহু বছর আগে পরিবারের এক সদস্য প্রতিমা দর্শন করার পর দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন। তার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের প্রতিমা দর্শন বন্ধ হয়ে যায়। এই বিশ্বাস মেনেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে রীতি।

এখানে প্রতিপদ থেকেই দেবীর আরাধনা শুরু হয়। চক্ষুদানের পর পরিবারের কেউ প্রতিমা দেখতে না পারলেও পুজোর দায়িত্ব সামলান সেবাইতেরা। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁরাই নিয়ম মেনে পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।

সেবাইত কুন্তল চক্রবর্তীর কথায়, পুজোর চার দিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতিই মন্তেশ্বরের দত্তবাড়ির দুর্গাপুজোকে অন্য পুজোগুলির থেকে আলাদা করে রেখেছে।

 

Latest News

কুণাল ঘোষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ হাইকোর্টের

ওয়েব ডেস্ক : তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট...

More Articles Like This