নদীয়া: সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই ৫৫ শিশুর মৃত্যু! মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগের আবহে মুখ খুললেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, প্রতিটি মৃত্যুই বেদনাদায়ক। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এক দিনেই পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। অগস্টেও হাসপাতালটিতে ৮৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল।
এই পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনও মৃত্যুই কাম্য নয়। সন্তানকে ঘিরে প্রত্যেক মা-বাবার স্বপ্ন থাকে। তাই একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, মালদহ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় আশপাশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও বহু রোগী সেখানে আসেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সম্ভব না হলে অনেক শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। ফলে চিকিৎসকদের সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেপ্টেম্বরে মৃত ৫৫ শিশুর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন অপুষ্টিতে ভুগছিল। কম বয়সে মাতৃত্ব এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্য হাসপাতাল থেকে রোগী পাঠানোর সমস্যার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে প্রতিটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিশুমৃত্যুর কারণ এবং হাসপাতালের পরিকাঠামোয় কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত পদক্ষেপ করা হবে।
প্রসঙ্গত, অগস্টে শিশুমৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা মালদহ মেডিক্যাল পরিদর্শন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের তৎকালীন সুপার এবং শিশু বিভাগের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।
