দেবাশীষ সেনগুপ্ত
অনুমোদনহীন মাদ্রাসার (Madrasa) পর এবার সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হলেও কার্যত পড়ুয়াশূন্য, অচল এবং পরিকাঠামোহীন মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধেও বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫০টি সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় নতুন করে ছাত্রছাত্রী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, চলতি শিক্ষাবর্ষে ওই মাদ্রাসাগুলিতে যে হাতে গোনা কয়েকজন পড়ুয়া রয়েছেন, তাঁদের শিক্ষাবর্ষ শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই কারণে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পঠনপাঠন চালানোর পর আগামী জানুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে নতুন করে ছাত্রছাত্রী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ধাপে ধাপে ওই মাদ্রাসাগুলির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে ২৫০টি মাদ্রাসাতেই এই পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ থাকছে না। নবান্ন সূত্রের দাবি, ধাপে ধাপে আরও প্রায় আড়াই হাজার সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলির বহু ক্ষেত্রেই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। কোথাও আবার কার্যত কোনও পড়ুয়াই নেই। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাবও রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি।
আরও খবর : বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপে তছনছ হবে দক্ষিণবঙ্গ? কেন সতর্ক প্রশাসন
সরকারের যুক্তি, যেখানে পড়ুয়া নেই বা নামমাত্র ছাত্রছাত্রী নিয়ে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক সম্পদ ব্যবহার করে যাওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই পর্যায়ক্রমে পড়ুয়া সংখ্যা, পরিকাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
এর আগে ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলি বন্ধ করেছিল রাজ্য সরকার। এবার সরকারি স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও কার্যত অচল হয়ে পড়া মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে, অনিয়মের অভিযোগে আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, পুজোর আগেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে জবাব এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে। ফলে আগামী দিনে মাদ্রাসা নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন আইএসএফের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানোর পরিবর্তে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, কোনও মাদ্রাসায় অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অন্যায়ভাবে কোনও মাদ্রাসা বন্ধ করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন।
