কলকাতা: বিধানসভা ভোটে্র ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে প্রকট হয়ে উঠেছে প্রীন-নবীন দ্বন্দ্ব। তৃণমূলের (TMC) অন্দরে যে চরম বিবাদ তৈরি হয়েছিল। ‘অভিষেকের জন্যই দলের সর্বনাশ হয়েছে। মমতাকে বাছতে হবে হয় আমি, নয় অভিষেক।’ চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সন্ধেয় একটি মাত্র চালে তার রাশ টেনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় ছোট থেকে বড় করেছেন, ওঁর অধিকার আছে আমায় দুটো কটূ কথা বলার।’অভিষেকের সৌজন্যের পরেই মান-অভিমান বরফ গলে জল হয়ে গেল। শ্রীরামপুরের বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee)সুর নরম করে জানালেন ‘সম্মান পেলে অভিষেককে বুকে জড়িয়ে কাজ করতে রাজি’।
তৃণমূলের ‘আদি বনাম নবীন’ দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) বলতে শোনা গিয়েছিল হাইকোর্টে অভিষেকের মামলা লড়বেন না। দল ছাড়ার হুমকি, ‘আমায় বাছুন নয় অভিষেককে’ বলে দলনেত্রীকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। কল্যাণের তোপের মুখে পড়েও সৌজন্যের নজিরগড়লেন অভিষেক। এই যুদ্ধ নিয়ে চরম জল্পনা ঠিক তখনই অত্যন্ত পরিণত ভঙ্গিতে সেই আগুনে জল ঢাললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রবীণ সাংসদের প্রতি একরাশ সৌজন্য ও শ্রদ্ধা উগরে দিয়ে বিতর্ক থামানোর চেষ্টা করলেন তিনি।সাংসদ বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় ছোট থেকে বড় করেছেন। উনি দলের প্রবীণ নেতা। আমার প্রতি ওঁর অধিকার আছে আমায় দুটো কটূ কথা বলার। ওঁর একটা ঘটনা খারাপ লাগতে পারে তাই হয়তো বলেছে।’অভিষেকের সেই বক্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে এবার পাল্টা মুখ খুললেন কল্যাণ। তবে আগের সেই ঝাঁঝালো সুর বা চরম আলটিমেটাম উধাও।
আরও পড়ুন: সাতসকালে বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক বাড়িতে ED-র হানা,
প্রবীণ সাংসদ স্পষ্ট করে দিলেন, সদিচ্ছা ও সম্মান পেলে তিনি অভিষেককে বুকে জড়িয়ে কাজ করতেও রাজি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সন্তানসম। একজন বয়স্ক মানুষ হিসেবে তো আমার একটা সম্মান প্রাপ্য আছে। ও যদি সেই সম্মানটুকু দিয়ে চলে, তাহলে আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আমার এতে কোনও আপত্তি নেই।”
