ওয়েব ডেস্ক: রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও সরকারি অর্থে বেতনপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে ডোমেস্টিক স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার (Smart Electric Meter) বসানো বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। এ বিষয়ে নবান্নের তরফে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘অ্যাবেকা’ (ABECA) এই নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
নবান্নের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন, আন্ডারটেকিং এবং অন্যান্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। যাঁদের বেতন, পারিশ্রমিক বা সাম্মানিক সরাসরি রাজ্যের রাজকোষ থেকে দেওয়া হয়, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন। বিষয়টি কার্যকর করতে সমস্ত বিভাগীয় প্রধান, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও আইজিপি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, ডিভিশনাল কমিশনার এবং জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী আলিফা আহমেদ, পদ ছাড়লেন মালা রায়, তৃণমূলে ফের অস্বস্তি?
এদিকে, গত ১০ জুন মুখ্য সচিবের জারি করা সার্কুলারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে অ্যাবেকা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস এক প্রেস বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের পরিপন্থী। তাঁর দাবি, গত ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয় এবং কোথাও জোর করে তা বসানো হবে না। অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের আরডিএসএস প্রকল্পের আওতায় রাজ্য সরকার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে বেতনভুক্ত কর্মচারীদের আবাসনে স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুব্রত বিশ্বাস আরও বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারের কোনও প্রকল্পই নাগরিকদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩-এ কোথাও স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ নেই। ফলে এই নির্দেশিকার আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। অ্যাবেকার অভিযোগ, বিদ্যুৎ পরিষেবার মতো অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রকে ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সংগঠনের দাবি, স্মার্ট মিটার প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাকে বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।
এছাড়াও সরকারি দফতরগুলির বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন সুব্রত বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, সরকারি দফতরগুলির শত শত কোটি টাকার বকেয়া কীভাবে তৈরি হল, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল। পরিবর্তে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নতুন বোঝা চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সার্কুলারকে ‘জনবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের একযোগে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাবেকা।
দেখুন আরও খবর:
