30.4 C
Kolkata

‘কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী জিততে পারতেন না’ বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Must Read

কলকাতা: লোকসভাতেও ধাক্কা খেতে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদীয় দলও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বেশিরভাগ সাংসদই NDAতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। হাতে রয়েছেন ৮ জন। ‘বিক্ষুব্ধ’দের আগেই বিশ্বাসঘাতক অ্যাখ্যায়িত করেছে তৃণমূল। দলবদলু ও বিক্ষুব্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সমীকরণ বদলের পর তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ-বিধায়কদের অনেকের মুখেই শোনা গিয়েছে আরকি কর কাণ্ডের কথা।এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে ‘বিদ্রোহী’দের একহাত নিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। পেশায় চিকিৎসক দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন, “আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল? পারলে সিবিআইকে সত্যি বলুন।”

পালাবদল হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সাংসদরা মুখ ফিরিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে চার জন সংখ্যালঘু সাংসদও রয়েছেন। ইউসুফ পাঠান, সাজদা আহমেদ, আবু তাহের, খলিলুর রহমান। সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর বরাবরই বঙ্গীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য পেয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় কোনও মুসলিম প্রতিনিধি না থাকাকে অনেকে এই ফ্যাক্টরের একটি বড় দিক হিসাবে মনে করছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে তৎকালীন মমতা-সরকার বরাবরই সংখ্যালঘুদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মমতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে NDA-তে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশে সংখ্যালঘুদের সাংসদরা। তাঁদের নাম উল্লেখ করেই খোঁচা দিলেন কল্যাণ। এবার সংখ্যালঘু সাংসদদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিয়ে কল্যাণ বললেন, ‘আবু তাহের, খলিলুর রহমান, তোমার নেতা কিন্তু নরেন্দ্র মোদি। মনে রেখো।

’কল্যাণের বক্তব্য, এখন যে প্রত্যেক বিক্ষুব্ধরা বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নাকি তাঁদের একাধিক অভিযোগ! কল্যাণের প্রশ্ন, “অভিযোগ কোথায় কাকে জানিয়েছিলেন? যদি অভিযোগ জানিয়ে থাকেন, তাহলে চিঠির কপি বা মেইল দেখান।অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে, তাহলে প্রমাণ দেখান।” বরং কল্যাণের বক্তব্য, মহিলা সাংসদরা ‘দিদিকে’ তুষ্ট করতে বারবার বলেছেন, “মহিলা এমপি-গুলোই বলেছে, দিদি কী সুন্দর তোমার শাড়ি। কী সুন্দর তোমার শাড়ির পাড়। কোনও অভিযোগ জানাইনি।”

আরও পড়ুন: কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, হাজির জুন-শিউলি-দেব

তৃণমূলের বিদ্রোহীরা প্রকাশ্যে নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশেষ কিছু না বললেও দলের নীতি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সরব হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের ‘সুখের পায়রা’ বলে আক্রমণ শানালেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। বিক্ষুব্ধদের খোঁচা দিয়ে কল্যাণ বলেন, “আসলে ওঁরা সবাই ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছেন বলে আজও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই থাকতে চাইছেন।” কিন্তু বিজেপি যে তাঁদের কোনওভাবেই নেবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। সব রিপোর্ট ওদের কাছে আছে, কে নারদায় ঘুস খেয়েছে, কে কী করেছে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না।” ‘বিদ্রোহী’দের ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘সুখের পায়রা’ বলে বিঁধে সাংসদ বলেন, “কাকলি ঘোষ ছাড়া এরা সকলে ২০১১ সালের পর দলে এসেছে। কোনও লড়াই করেনি। আর তারকারা ভিনদেশি তারা। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় কোনওদিন জিততে পারত না। এরা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করেছে।”

আরজি কর প্রসঙ্গ তুলে দুই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শর্মিলা সরকার ও অভয়ার মাকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, “আর জি কর ইস্যুতে কাকলি আর শর্মিলা দুই ডাক্তার কবে রাস্তায় নেমেছিল? আমি হেঁটেছি। বেচারা অভয়া, মা রাজনীতি করল ওকে নিয়ে, এখন এরাও করছে। কাকলি আর শর্মিলাকে চ্যালেঞ্জ করছি, পারলে আর জি করে কী হয়েছে সিবিআইকে গিয়ে বলুন ওনারা।কল্যাণ জানিয়েছেন, এই ধরনের সুবিধাবাদী নেতারা কেবলমাত্র ক্ষমতার অলিন্দে গা ভাসাতে ভালবাসেন। তাই তাঁদের প্রতি কড়া বার্তা, “দল ছাড়তে চাইলে অনায়াসে ছেড়ে চলে যান, আমরাই আপনাদের চলে যাওয়ার আর্জি জানাচ্ছি। কিন্তু দল ছাড়ার পর দয়া করে নিজেদের নামের পাশে ‘তৃণমূল নেতা’ বা ‘তৃণমূল সাংসদ’ (TMC MP) তকমাটি লেখা অবিলম্বে বন্ধ করুন।”

Latest News

বঙ্গে ঢুকল বর্ষা, উত্তরে শুরু প্রবল বৃষ্টি! দক্ষিণবঙ্গে কবে ঢুকবে মৌসুমি বায়ু? দেখুন মেগা আপডেট

ওয়েব ডেস্ক: টানা দাবদাহ, চরম আর্দ্রতা এবং অস্বস্তিকর গরমে গত কয়েক দিন কার্যত নাজেহাল ছিলেন বঙ্গবাসী। অবশেষে সেই অপেক্ষার...

More Articles Like This