নয়াদিল্লি: তৃণমূল (TMC ) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) বিরুদ্ধে ফের গুরুতর অভিযোগ তুললেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে ‘আপত্তিকর’ ও ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্য করার অভিযোগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে (Om Birla) চিঠি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন, এমনকি প্রয়োজনে বহিষ্কারের দাবিও তুলেছেন।
স্পিকারকে লেখা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন, শুধু তাঁকেই নয়, সংসদের আরও কয়েকজন মহিলা সাংসদকেও বারবার ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর দাবি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য ও আচরণ সংসদীয় শালীনতার পরিপন্থী এবং মহিলা সদস্যদের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে।
কাকলি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, “বারবার আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়েছে। এই ধরনের আচরণ সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী।” তাঁর অভিযোগ, লোকসভার আলোচনার সময় এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছে যা মহিলা সাংসদদের জন্য অসম্মানজনক এবং অপমানজনক।
বারাসতের সাংসদের দাবি, এই ধরনের আচরণ লোকসভার বিধি এবং সংসদীয় আচরণবিধির পরিপন্থী। সেই কারণেই স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: যোগ দিবসে মোদির কর্মসূচি, সুন্দরবন থেকে বাবুঘাটে ৫০০ জলযান! এক সপ্তাহ বন্ধ পর্যটন
উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তখনও তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী আচরণ ও হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার ফের সেই অভিযোগ সামনে এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেন তিনি।
তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক ছিলাম। কয়েক মাস বাদে দীর্ঘ সময় ওই দায়িত্ব সামলেছি। এখন উনি কীভাবে এই ধরনের কথা বলছেন?”
এছাড়াও কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে উদ্দেশ করে নারদ কাণ্ড এবং সিন্ডিকেট প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষও করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন স্পিকার ওম বিড়লা এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করেন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
