ওয়েব ডেস্ক : বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার বা আইএমএফ (IMF)। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বাজারে চাহিদার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই অনুমান করা হয়েছে।
ভারতের অর্থনীতির (Indian Economy) বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সাধারণ মানুষের খরচ করার প্রবণতা, দেশের অভ্যন্তরে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের উন্নতি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি দেশের বড় বাজার এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়েও ভারতের অর্থনীতিতে বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। তবে একটি নির্দিষ্ট ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হার এবং গোটা অর্থবর্ষের বৃদ্ধির হার এক নয়।
আরও খবর : ছয় রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর
তবে অর্থনীতির সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলে ভারতের আমদানি খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহণ, উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উপর। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তাও ভারতের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির গতিও তুলনামূলকভাবে ধীর থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে গেলে রফতানি এবং শিল্পক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বজায় রাখা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো ভারতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।সব মিলিয়ে, আগামী দুই অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে আশা করছে আইএমএফ। তবে এই পূর্বাভাস বাস্তবে কতটা মেলে, তা নির্ভর করবে দেশের বাজারের চাহিদা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানির দাম এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর।
