হকারদের আবেদন খারিজ! মঙ্গলা হাট নিয়ে কড়া অবস্থান কলকাতা হাইকোর্টের

Must Read

পীযূষ কান্তি নাগ

ওয়েব ডেস্ক : সাধারণ মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে অধিকারকেই প্রাধান্য দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। ‘মঙ্গলা হাট’ (Mangala Haat) হকারদের অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনে সারা দিলেন না বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

প্রসঙ্গত,হাওড়ার (Howrah) প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্রে সপ্তাহে দুবার বসা ‘মঙ্গলা হাট’ থেকে হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের। মামলায় আবেদন, প্রশাসনের জারি করার নোটিসের ওপর অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের নির্দেশিকা জারি করুক কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।

তবে মামলাটির শুনানিকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর প্রশ্ন তোলেন যে, একজন হকারের জীবিকা অর্জনের অধিকার কি কখনও সাধারণ মানুষের ফুটপাত দিয়ে অবাধে চলাচলের মৌলিক অধিকারকে ছাপিয়ে যেতে বা বাতিল করতে পারে? এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক বিভিন্ন রায়ে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিচারপতি ভট্টাচাৰ্যর পর্যবেক্ষণও,চলাচলের ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারের প্রাধান্যকে আদালত দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট করেছে যে, যদিও ব্যবসা বা জীবিকা অর্জনের অধিকার স্বীকৃত, তবুও নাগরিকের জন্য পরিকাঠামোতে জবরদখল করার হাতিয়ার হিসেবে একে ব্যবহার করা যায় না। ফুটপাত ও সরকারি রাস্তা মূলত পথচারীদের ব্যবহারের জন্য। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এগুলি স্থায়ীভাবে দখল করার বিশেষ অধিকার দাবি করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে বিষয়টির সামঞ্জস্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপরে ভিত্তি করে বিচারপতি ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় পৌরসভা ও প্রশাসনের কাছে সরকারি পথ থেকে বাধা অপসারণের ক্ষমতা এবং দায়িত্ব রয়েছে। মঙ্গলা হাটের ঐতিহ্যর দোহাই দিয়ে কোনও ছাড় নয়।

আরও খবর : কেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদেরই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে বিজেপি? জবাব দিলেন দিলীপ ঘোষ

উল্লেখ্য, ‘মঙ্গলা হাট’ (Mangala Haat) হাওড়ার প্রাণকেন্দ্রের অন্যতম বৃহত্তম পোশাকের হাট এবং এর আবেদনকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে। বিচারপতি তাঁর রায়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক ঐতিহ্য, প্রশাসনিক নিয়মকানুন বা শহরের আইন থেকে কোনও বিশেষ ছাড় বা সুরক্ষা প্রদান করে না। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনও সুরক্ষাকবচ প্রদান করা হবে না। উচ্ছেদ বা এলাকা খালি করার বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার পূর্ণ ক্ষমতা প্রশাসনের হাতেই থাকবে ।

তদুপরি, আদালত রাজ্য কর্তৃপক্ষ ও পৌর সংস্থাগুলিকে বেশ কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন । মূল মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন পথচারীদের চলাচলে যেন কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি না হয়।’স্ট্রিট ভেন্ডরস (জীবিকার সুরক্ষা ও হকারি নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এর অধীনে পুনর্বাসন বা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতিগুলি যেন কঠোরভাবে নির্ধারিত জোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে । পরবর্তী নির্ধারিত শুনানির আগে রাজ্যকে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন ও শহরের যানজট নিরসন কৌশলের রূপরেখা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ হলফনামা দাখিল করতে হবে।

দেখুন অন্য খবর :

Latest News

অনুশীলনে চীনা ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ, নিহত ২ বাংলাদেশি জওয়ান, আহত ১

ওয়েব ডেস্ক: চীনের (China) তৈরি একটি টাইপ ৫৯ ট্যাঙ্ক (Type 59 Tank) বিস্ফোরণে মৃত্যু হল বাংলাদেশের (Bangladesh) দুই সেনার।...

More Articles Like This