কলকাতা: বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনা ভাষণে বৃহস্পতিবার একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের অবস্থান তুলে ধরলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi)। চিংড়িহাটা মেট্রো (Chingrihata Metro Project) প্রকল্পে দীর্ঘদিনের জটিলতা থেকে শুরু করে রেলের জমি পুনরুদ্ধার অভিযান বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি পরোক্ষে তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
রাজ্যপাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পের কাজ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের গতি পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “দীর্ঘদিন মেট্রোর কাজ আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন সরকার এসে সেই কাজ শুরু করেছে।”
আরও পড়ুন: বিরোধী দলনেতা পদে বহাল ঋতব্রতই
নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের চিংড়িহাটা অংশে মাত্র ৩৬৬ মিটার কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। যান চলাচল, জমি এবং প্রশাসনিক অনুমতি সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে যায়। বিষয়টি আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালেও সমাধান হয়নি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে রেল ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এই প্রসঙ্গেও সরকারের পাশে দাঁড়ান রাজ্যপাল। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা জমি পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।”
যদিও পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টও জানিয়েছে, বৈধ লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আপাতত কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশও জারি রয়েছে।
বাজেট ভাষণে রাজ্যের যুবসমাজের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যপাল সরকারের মূল বার্তা হিসেবে তুলে ধরেন ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগান। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
