ওয়েব ডেস্ক : ঝুলন উৎসবের (Jhulan festival) আগে জমজমাট হওয়ার কথা কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) ঘূর্ণির পুতুলপট্টি। কিন্তু এবার ছবিটা একেবারেই আলাদা। উৎসবের মরশুমেও মাটির পুতুলের বিক্রি তলানিতে। GI স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন ঘূর্ণির বহু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মৃৎশিল্পী। পুতুল বিক্রি না হওয়ায় সংসার চালাতেও সমস্যায় পড়ছেন শিল্পী পরিবারের সদস্যরা।
শিল্পীদের কথায়, একসময় ঝুলন উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণির মাটির পুতুলের ব্যাপক চাহিদা ছিল। দেব-দেবী, গোপাল, বাউল-বাউলানি, কীর্তনের সেট থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার বিভিন্ন মডেল কিনতে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাজারের ছবিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল মাধ্যমের প্রসারের পাশাপাশি ফাইবার, প্লাস্টিক, মেটাল ও স্টোন ডাস্টের তৈরি সামগ্রীর দাপটে মাটির পুতুলের চাহিদা অনেকটাই কমেছে।
আরও খবর : ভাঙড়ে বৃষ্টির মধ্যেও অন্নপূর্ণাদের দীর্ঘ লাইন! টাকা না পেয়ে ক্ষোভ, মোতায়েন ৩০ পুলিশকর্মী
ঘূর্ণির প্রবীণ শিল্পীদের অভিযোগ, মাত্র ২০ টাকা দামের পুতুলও এখন বিক্রি হচ্ছে না। দিনের পর দিন দোকান খুলে বসে থাকলেও অনেক সময় বউনি হচ্ছে না। ফলে পুতুল তৈরি করেও বিক্রি না হওয়ায় বাড়ছে আর্থিক চাপ। পরিস্থিতির কারণে বংশপরম্পরার এই পেশা ছেড়ে বিকল্প জীবিকার পথে হাঁটছেন শিল্পী পরিবারের তরুণরা। কেউ টোটো চালাচ্ছেন, আবার কেউ সবজি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
শিল্পীদের দাবি, ঘূর্ণির শতাব্দীপ্রাচীন মাটির পুতুল শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। শিল্পীদের জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পুতুলের বাজার তৈরি, বিপণনের ব্যবস্থা এবং আধুনিকভাবে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে। শিল্পীদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না করা হলে GI স্বীকৃতি থাকলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
