ওয়েব ডেস্ক : বেআইনি পথে আমেরিকা (America) যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ইথিওপিয়ায় (Ethiopia) অপহরণ! গুজরাতের এক যুবক এবং দুই মহিলাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের আটকে রেখে পরিবারের কাছে প্রায় ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন মেহসানার ২৩ বছরের ঋত্বিক শৈলেশভাই জানসারি এবং ৩০ বছরের মমতা চিরাগভাই চাভড়া। মমতার বাড়ি মেহসানায় হলেও বর্তমানে তিনি আমদাবাদে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মেহসানার এজেন্ট অলপেশ পটেলের মাধ্যমে তাঁরা বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। ২০ সেপ্টেম্বর গুজরাত থেকে রওনা দিয়ে প্রথমে জয়পুরে যান তাঁরা। সেখান থেকে এতিহাদ এয়ারলাইন্সের বিমানে আবু ধাবি হয়ে একই দিনে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদিস আবাবায় পৌঁছন।
আরও খবর : মায়ানমারে বাজারের কাছে সেনার বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৪৯ আহত ৫৮
আদিস আবাবায় সোয়াজিল্যান্ড স্ট্রিটের জিএসএফ অতিথিশালায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘর বুক করা ছিল। তাঁদের কাছে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ ইথিওপিয়ার (Ethiopia) ই-ভিসাও ছিল। পরিবারের অভিযোগ, আদিস আবাবায় পৌঁছনোর পরই এজেন্টের লোকজন তাঁদের অপহরণ করে। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে তাঁদের সঙ্গে যাওয়া আরও এক যুবক টাকা দিয়ে মুক্তি পাওয়ার পর। ওই যুবকও একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযোগ, অপহরণকারীরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের তরফে ৭০ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি গুজরাতে ফিরে আসেন।
অন্যদিকে ঋত্বিক, মমতা এবং আরও এক মহিলার পরিবারের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরেও তিন জনের কোনও খবর না মেলায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। মেহসানার এজেন্ট অলপেশ পটেল এই কাজের দায়িত্ব ভদোদরার অন্য এক এজেন্টকে দিয়েছিলেন বলে জানা গেলেও বর্তমানে অলপেশের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েক জনের বিদেশ যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযোগ, অপহৃতদের আগে একই পদ্ধতিতে প্রায় ১০ জন ইয়েমেনে গিয়েছিলেন। তাঁদেরও এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
