ওয়েব ডেস্ক : রায়গঞ্জ থানার পুলিশ চিকিৎসকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আশ্চর্য! ওই থানার সমস্ত পুলিশের নাম দিন। আমরা সকলকে পশ্চিমবঙ্গের শেষ প্রান্তে ট্রান্সফার করব। তাঁদের জায়গায় দক্ষ পুলিশদের বসাব, যারা আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে পারবে। পুলিশ নিরাপত্তা দিতে না পারলে আমরাই চিকিৎসকের নিরাপত্তা দেব। রায়গঞ্জ থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এমনই মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। প্রধান বিচারপতির কড়া মন্তব্যের মুখে পড়ে সময় চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সরকারি আইনজীবী।
ডাক্তার রাকেশ গোপ রায়গঞ্জ শহর ও থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি রায়গঞ্জ শহরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল তৈরি করছেন। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজের ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। অভিযোগ, এরই মধ্যে কয়েক জন বাসিন্দা তাঁর হাসপাতাল নির্মাণের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন। তারা আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, রায়গঞ্জ পুরসভার অনুমোদনের ভিত্তিতেই ওই নির্মাণকাজ করছেন। নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হলে সেখান থেকেও নির্মাণকাজের অনুমতি দেওয়া হয়। এরই মধ্যে গত ৩১ অগস্ট ম্যাজিস্ট্রেট ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেন। এই নির্দেশের মেয়াদ দু’মাস। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চিকিৎসক। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ১৭ নভেম্বর।
আরও খবর : দিল্লির পর এবার কলকাতা, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে পথে নামার ডাক কালীঘাট তৃণমূলের
একক বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন ওই চিকিৎসক। তাঁর আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে একক বেঞ্চে পরবর্তী শুনানির আগেই ১৬৩ ধারার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে চিকিৎসক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এ দিন আদালতে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের পেশ করা রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। তিনি রায়গঞ্জ থানার পুলিশকে ভর্ৎসনা করেন। সরকারি আইনজীবীকে উদ্দেশ করে তাঁর মন্তব্য, পুলিশ নিরাপত্তা দিতে না পারলে আদালতই চিকিৎসকের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে সরকারি আইনজীবী সময় প্রার্থনা করেন। প্রধান বিচারপতি সরকারি আইনজীবীকে জানিয়ে দেন, চিকিৎসককে হাসপাতাল নির্মাণের কাজে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারবে কি না, তা আদালতকে জানাতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে আদালত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। আগামী বুধবারের মধ্যে রায়গঞ্জ থানার পুলিশকে কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে।
