আকাশে যুদ্ধবিমানের পিছনে ছোটা ছোট্ট মেয়েটিই আজ ইতিহাসের পাতায়! বায়ুসেনায় প্রথম মহিলা ফাইটার কমব্যাট লিডার ভাবনা কান্থ

Must Read

ওয়েব ডেস্ক : ছোটবেলায় আকাশে যুদ্ধবিমান দেখলেই মুগ্ধ হয়ে যেতেন তিনি। বিমান যতক্ষণ দেখা যেত, ততক্ষণ চোখ সরাতেন না। সেই ছোট্টবেলার স্বপ্নই একদিন তাঁকে পৌঁছে দেয় যুদ্ধবিমানের ককপিটে। এবার ভারতীয় বায়ুসেনায় আরও এক ইতিহাস গড়লেন স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্থ (Bhawana Kanth)। ২০২৬ সালের অগস্টে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে ফাইটার কমব্যাট লিডার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ট্যাকটিকস অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টে উন্নত প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করে এই সাফল্য পান তিনি।

ছোটবেলায় ভাবনার (Bhawana Kanth) ধারণা ছিল, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেই যুদ্ধবিমান ওড়ানোর সুযোগ মিলবে। পরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন, সেই সময় মহিলাদের যুদ্ধবিমানের চালক হিসেবে নিয়োগ করা হত না। কিন্তু বাধা তাঁর স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। ২০১৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনা মহিলাদের জন্য ফাইটার পাইলট শাখার দরজা খুলে দেয়। সেই বছর অবনী চতুর্বেদী ও মোহনা সিংয়ের সঙ্গে দেশের প্রথম তিন মহিলা ফাইটার পাইলটের একজন হিসেবে নতুন ইতিহাসের অংশ হন ভাবনা।

২০১৭ সালে ফাইটার স্কোয়াড্রনে যোগ দেন তিনি। ২০১৮ সালের মার্চে মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমানে প্রথম একক উড়ান সম্পন্ন করেন। পরের বছর মে মাসে দিনের বেলায় যুদ্ধবিমান চালিয়ে অভিযান পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করা ভারতের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হন ভাবনা। তাঁর সাফল্যের তালিকায় রয়েছে আরও একাধিক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ২০২০ সালে তাঁকে ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ দেওয়া হয়। ২০২১ সালে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ ও বিমান প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হওয়ার নজিরও গড়েন তিনি। মিগ-২১ বাইসনের পর বর্তমানে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

আরও খবর :  মোদি সরকারের ২০০ অফিসার আমাদের খবর দিচ্ছেন, ইডি-সিবিআইয়েও চর আছে দাবি রাহুলের

ফাইটার কমব্যাট লিডার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন তাঁর কর্মজীবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রশিক্ষণে উন্নত কৌশল, অভিযানের পরিকল্পনা এবং জটিল সামরিক পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা তৈরি করা হয়। ফলে ভাবনার সাফল্য শুধু যুদ্ধবিমান চালানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামরিক অভিযানে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তাঁর অগ্রগতির পরিচয় বহন করছে।

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক তরুণীদের উদ্দেশে ভাবনার পরামর্শ, ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়া চলবে না। ভুল করলে অন্যেরা কী বলবে, তা ভেবে পিছিয়ে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে ব্যর্থতা আসতে পারে। কিন্তু সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোই আসল সাফল্য। তাঁর কথায়, ব্যর্থতাকে শেষ বলে মনে করা উচিত নয়। বরং ব্যর্থতা থেকেই এগিয়ে যাওয়ার সাহস খুঁজে নিতে হবে। কারণ, যে পেশাকে একসময় অসম্ভব বলে মনে হয়, সময়ের সঙ্গে সেই পেশাতেই নতুন প্রজন্মের জন্য তৈরি হতে পারে সম্ভাবনার দরজা।

Latest News

বিহার এসআইআর মামলার রায়,নতুন ‘ফর্ম ৬’ ছিল না : সুপ্রিম কোর্ট

ওয়েব ডেস্ক : বিহার (Bihar) এসআইআর মামলার রায় ঘোষণার সময় নতুন ‘ফর্ম ৬’-এর অস্তিত্ব ছিল না। তাই এই ফর্ম...

More Articles Like This