ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে বেআইনি টোটো, রিকশা বন্ধ করতে প্রশাসনকে শুধু খাতায় কলমে নির্দেশ দিলেই হবে না, তা এবার বাস্তবায়িত করতে হবে বলে মন্তব্য করল কলকাতা হাইকোর্ট। মায়াপুর ইস্কনে বেআইনি টোটো, রিকশা বন্ধ করতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার সূত্রেই কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যকে মৌখিকভাবে বলে, গোটা রাজ্যেই একই পরিস্থিতি।
পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ, মায়াপুর ইস্কনের স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর করতে হবে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি। নদিয়া জেলার পুলিশ সুপার, স্থানীয় থানার ওসি ও পঞ্চায়েতকে শুধু খাতায় কলমে না দেখিয়ে বেয়াইনি রিকশা-টোটো বন্ধ করে দেখাতে হবে।
এ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ করা হল সে নিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে বিস্তারিত রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
প্রসঙ্গত, মায়াপুরে টোটো, বেআইনি ই-রিকশা বন্ধ করতে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। মামলাকারীর আর্জি ছিল, ধুবুলিয়া মায়াপুর রোড (১১.১২ কিলোমিটার রোড), ইস্কন মন্দির এই রাস্তাতেই পড়ে। বেআইনি টোটো ও রিকশার দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারে না। রাস্তায় যানজট থাকার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সহ অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। কলকাতা হাইকোর্ট এর আগে নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে আবহাওয়ার বড় বদল, ৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
রাজ্যের আইনজীবী জানান হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে, ৭ অগাস্ট প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে লাইসেন্স-বিহীন রিকশা, টোটো চালানো যাবে না।পাশাপাশি জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় রিকশা চালানো যাবে না বলা হয়েছে।
কিন্তু প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এদিন বলে, “শুধু বিজ্ঞপ্তি জারি করে হবে না। বেআইনি টোটো ও ই-রিকশা বন্ধ হয়নি তো! সরকারি তথ্য অনুয়ায়ী নদিয়া জেলায় ১০৮০০-র বেশি বেআইনি টোটো চলে। তার মধ্যে মাত্র ৪৫০০ জন লাইসেন্স প্রাপ্ত। গোটা রাজ্যে একই অবস্থা। আদালত কার্যকরী পদক্ষেপ কী করা হচ্ছে তা দেখতে চায়।”
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এদিন নির্দেশ, মায়াপুর বামনপুকুর পঞ্চায়েত, পরিবহণ দফতরের নদিয়া জেলা শাখা, নদিয়া জেলার এসপি, স্থানীয় থানার ওসিকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। তার জন্য প্রথমে কারা নথিভুক্ত আর কারা নথিভুক্ত নয় তা চিহ্নিত করুন। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কিছু করতে পারবেন না। শুধু পেপার ওয়ার্ক করলে হবে না।পাশাপাশি পুরো জেলাতেই ৭ অগাস্টের বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে। ১৭ নভেম্বর ফের শুনানি হবে এই মামলার।
