ওয়েবডেস্ক- ভেনেজুয়েলার (Venezuela) পর এবার গ্রিনল্যাড (Greenland) ! কী চলছে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) মাথায়? এবার নাকি তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা ভাবছেন। অন্তন্ত সেই রকমই জানিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের সাফাই গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতেই দেশটিকে দখলের কথা ভাবছেন তিনি। কারণ আমেরিকা দখল না করলে, নাকি রাশিয়া (Russia) আর চীন (China) এই গ্রিনল্যান্ডকে দখল করে নেবে। তাই গ্রিনল্যান্ডকে এই দুই দেশের হাত থেকে বাঁচাতেই তাঁর এই পরিকল্পনা! শুক্রবার আন্তজার্তিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে এমন খবর সামনে এসেছে।
রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে আমেরিকাকে গ্রিনল্যান্ড নিজেদের মালিকানায় নিতে হবে। প্রয়োজনে সহজ পথে বা কঠিন পথে এগোনোর কথাও বলেন তিনি। ফের ট্রাম্পের এই কথা নয়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কাজটা কঠিন হোক বা সহজ, তাঁরা করবেই বলে জানিয়েছেন বদ্ধপরিকর ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনের নৌবহর নাকি গ্রিনল্যান্ড ঘিরে রেখেছে। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে তিনি কোনও যুক্তি দেখাননি।
আরও পড়ুন- ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে রাজি আমেরিকা!
ট্রাম্পের কথায়, ”আমি চীনের মানুষদের ভালোবাসি। রাশিয়ার নাগরিকদেরও ভালোবাসি। কিন্তু আমি তাঁদের প্রতিবেশী হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে দেখতে চাই না। এটা হতে দেব না। আর হ্যাঁ, ন্যাটোকেও এটা বুঝতে হবে।” এদিকে ইতিমধ্যেই ন্যাটোর সদস্য দেশগুলির মধ্যে কানাডা এবং মুখ্য ইউরোপীয় দেশগুলির তরফে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ট্রাম্প এদিন কার্যতই তাই ন্যাটোকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন।
হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ড কিনে নেওয়ার বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। দেশটির সরকার সতর্ক করেছে, সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ঐক্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এদিকে ট্রাম্পের দাবি, বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তি যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, ৯ বছর বা ১০০ বছরের চুক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, মালিকানা থাকতে হয়। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিতে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের প্রধান দেশগুলি ও কানাডা।
বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ এই গ্রিনল্যান্ড। এটি উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও আর্কটিক অঞ্চলে নৌ চলাচল নজরদারিতে এর ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। এরই মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক ঘাঁটিতে আমেরিকার শতাধিক সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে।