ওয়েব ডেস্ক: সংসদে তুমুল বিতর্ক, শাসক-বিরোধী মুখোমুখি অবস্থান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আচমকা বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করল নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকার। আর তাতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা বিতর্কের পর শুক্রবার লোকসভায় এই সংক্রান্ত সংশোধনী বিলে ভোটাভুটির কথা। তার আগেই কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রকের তরফে পুরনো আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত অনেককেই চমকে দিয়েছে। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া ওই আইনে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। তবে শর্ত ছিল, জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই তা কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: আজও ঝড়-বৃষ্টির দাপট, সপ্তাহ ঘুরতেই বাড়বে গরম
সমস্যা সেখানেই। ২০১১ সালের পর দেশে আর জনগণনা হয়নি। ফলে আইন পাশ হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি এতদিন। এবার কেন্দ্র নতুন সংশোধনের মাধ্যমে জনগণনার শর্ত শিথিল করতে চাইছে। সরকারের প্রস্তাব, ২০১১ সালের তথ্য বা বর্তমান আসনের অনুপাতে সংরক্ষণ কার্যকর করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষমতাও নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে কেন্দ্র।
এই প্রস্তাবেই তীব্র আপত্তি বিরোধীদের। তাঁদের অভিযোগ, সংবিধানের মূল কাঠামোয় হস্তক্ষেপ করে সরকার একতরফা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে। সেই কারণেই সংসদে বেনজিরভাবে মধ্যরাত পর্যন্ত বিতর্ক গড়ায়।
এরই মধ্যে হঠাৎ করে পুরনো আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত কেন? তা নিয়ে সরকারিভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রক্রিয়াগত জট কাটাতেই এই পদক্ষেপ। কারণ, আইন কার্যকর না থাকলে নতুন সংশোধন পাশ হলেও তা বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হতে পারত। সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
