পানিহাটি: প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে অভয়ার মা। পানিহাটি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। বুধাবর পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী (Panihati Constituency BJP Candidate) ৬নং ওয়ার্ড এ প্রচার এ বেরিয়ে ছিলেন। সকালে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অভয়ার মা, সেখানেই তাঁকে প্রচার করতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী। অভিযোগ প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা তাঁকে হেনস্থা করে।
বুধবার বিজেপি প্রার্থী যখন প্রচারে বেরিয়েছিলেন, তখনই তাঁকে উদ্দেশ্য করে অনেকেই জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। অভয়ার মা বলেন, ”তৃণমূলের থ্রেট কালচার বাহিনী, গুণ্ডা বাহিনী, তাঁরা এসে আমাকে আক্রমণ করে।আশা কর্মীরাও আমাদের আক্রমণ করে। প্রথমে ওঁরা জয় বাংলা স্লোগান তুলে আমার গায়ে অ্য়াটাক করেছিল। আমার গায়ে অল্প লেগেছিল। আমার সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বেশি আঘাত লেগেছে। অভয়ার মা এভাবে থামবে না। অভয়ার মা এঁদের সবাইকে জেল খাটিয়ে ছাড়বে।” পানিহাটি বিধানসভা অন্তর্গত পানিহাটি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়েছিলেন। বাড়ি বাড়ি প্রচার সারছিলেন। অভিযোগ সেই সময় বেশ কিছু তৃণমূল সমর্থক মহিলারা তাঁদের ওপর কোনওরকম প্ররোচনা ছাড়াই হামলা চালান। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ যে তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই প্রচার চালাচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘মুখে লিউকোপ্লাস্ট কেন?’ আরামবাগ থেকে মোদিকে টার্গেট মমতার
এদিকে পালটা এই ইস্যুতে বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি বলছেন, ”আমি আগেও বলেছি কাকিমার সম্পর্কে কোনও কথা বলব না। এখনও বলছি না। তবে সাধারণত দেখি, কোনও দলের প্রার্থী পাড়ায় প্রচারে গেলে, সেই পাড়ার লোকেরা সঙ্গে থাকেন। এখানে যাঁরা প্রচারে এসেছিলেন, তাঁরা পাড়ার নন। বাড়ির পোশাকে দাঁড়িয়েছিলেন মহিলারা। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে কয়েকজন বহিরাগত ছিলেন, তাঁরা গিয়ে এলাকায় বলছিলেন যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে, এই কুৎসাই রটাচ্ছিলেন তাঁরা।
অভয়ার মা অভিযোগ করেন, প্রচার করার সময় একদল জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছিল। তারা আমাকে অ্যাটাক করেনি। পরে ঘুরে অন্য গলি দিয়ে যখন আবার আসি, তখন তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতী, আশাকর্মী একদম সামনে এসে জয় বাংলা বলে স্লোগান দিতে থাকে। আমার গায়ে ফুল ছিটিয়ে দেয়। আমার সামনে এসে মারার চেষ্টা করে। আমার একটু চুলে লেগেছে। কিন্তু আমার কর্মীদের গায়ে লেগেছে। তৃণমূল আমাকে খুবই ভয় পেয়েছে। তাই এ সব করছে। তিনি বলেন, তৃণমূল দুষ্কৃতীরা আমাকে মারধরের চেষ্টা করেছে। আমার বিশেষ লাগেনি। কর্মীদের লেগেছে। আমি চাই না ভোটের সময় এসব করা হোক। তৃণমূল ভয় পেয়েই এভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বাংলার সব মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। এর শেষ দেখে ছড়ার কথাও জানান।

