কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ ভোটের ভরা ডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত মাটিতে মিশে গিয়েছে। ভোটে ভরাডুবির পরে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবারই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে মমতা এবং সোনিয়ার সৌজন্যসাক্ষাৎ হয়েছিল। একে অপরকে আলিঙ্গন করেছিলেন তাঁরা। তার পরের দিন বিকেলেই সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। এই অস্থির পরিস্থিতিতে সোনিয়া-মমতার বৈঠকের পরই জল্পনা শুরু হয়েছে মিশবে কী কংগ্রেস-তৃণমূল?
বাংলায় তৃণমূল বিপন্ন। তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদরা একের পর এক বিদ্রোহী।কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন লোকসভার সাংসদ আলাদা ব্লক তৈরি করে নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করতে পারে। রাজ্যসভার সাংসদদের একাংশও দল ছাড়ছে, পদ ছাড়ছে। বিধানসভায় ঋতব্রতের হাত ধরে ৬৪ জন বিধায়ক আলাদা তৃণমূল গড়ার চেষ্টা করছে।যদি নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে, তবে দলের প্রতীকও পেয়ে যেতে পারে। দলের টাকা থেকে শুরু করে যাবতীয় অধিকার তাদের হাতে চলে যাবে। এই বিপর্যয় রুখতেই কি স্ট্র্যাটেজি হতে চলেছে তৃণমূলের তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে জরুরি বৈঠক রাহুল গান্ধী-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর কংগ্রেসকে আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সূত্রের দাবি, তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে। যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে দুদলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও মুখ খোলেনি।তৃণমূলের ভাঙন বাড়তে কংগ্রেসের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একদিন আগে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠক করেছেন অভিষেক। পরপর দু’দিন দুই দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতাদের বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। শোনা যাচ্ছে, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, সম্ভাব্য ভাঙন এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদলবলে তৃণমূলকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারেন এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে রাজধানীর অন্দরে। কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই চরম দুঃসময়ে মমতাকে ‘গ্রহণ’ করে, তাহলে প্রদেশ নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্ত মানবে? রাজ্যের যে কংগ্রেস কর্মীরা এতদিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেত্রী হিসাবে মানবেন?
